কলকাতা: বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই চাপে তৃণমূল কংগ্রেস এবং সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায় (Humayun Kabir)। বিধানসভা নির্বাচনে নিজের কেন্দ্রে হারা থেকে শুরু করে গলার কাঁটা অভিষেক। সম্প্রতি দলে ভাঙ্গন নিয়েও বেশ চাপে ১৫ বছর রাজত্ব চালানো তৃণমূল এবং নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এই আবহেই ফের রাজনৈতিক চমক বঙ্গে। মমতাকে বিধানসভায় ফেরাতে বদ্ধ পরিকর খোদ দলের বহিস্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির।
তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং নিজস্ব দল গঠনের পরও, এজেউপি (আম জনতা উন্নয়ন পার্টি) প্রতিষ্ঠাতা ও মুর্শিদাবাদের প্রভাবশালী নেতা হুমায়ুন কবির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আমার কাছে আসেন, তাহলে আমি তাঁকে রেজিনগর থেকে বিধানসভায় পাঠাতে পারি।
আরও দেখুনঃ চিনের মিসাইল, তুরস্কের ড্রোন! অপারেশন সিঁদুর থেকে শিক্ষা নিয়ে এই ৫টি অস্ত্র কিনছে পাকিস্তান
নন্দীগ্রাম থেকে তিনি জিতবেন না, কিন্তু রেজিনগরে চাইলে আমি পদত্যাগ করে তাঁর জয় নিশ্চিত করব।”হুমায়ুন কবির, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছেন। আজ তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি আইন অনুসারে একটি আসন ছেড়ে দিয়ে মমতাদিকে সেই আসন থেকে উপনির্বাচনে লড়ার সুযোগ করে দেবেন। তিনি আরও বলেন, “আজকের যে পরিস্থিতিতে তিনি রয়েছেন, তা আমাকে ব্যথা দেয়।
আমি যা কিছু আজ, তা তাঁর জন্যই। আজ হয়তো অনেকে তাঁর কথা শুনছে না, কিন্তু রেজিনগরে হুমায়ুন কবিরের কথাই শেষ কথা।”এই প্রস্তাব রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তুলেছে। হুমায়ুন কবির একসময় তৃণমূল কংগ্রেসেরই নেতা ছিলেন। ২০১১ সালে কংগ্রেস থেকে রেজিনগরে জয়ী হয়েছিলেন, পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে মন্ত্রিত্বও পেয়েছিলেন। কিন্তু দলের সঙ্গে বিরোধের জেরে একাধিকবার বহিষ্কৃত হন।
২০২৫ সালের শেষে নিজের দল এজেউপি গঠন করেন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব ভূমিকা নেন। তাঁর এই হঠাৎ ‘সাহায্যের হাত’ বাড়ানো তাই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নির্বাচনী ফলাফলের পর বড়সড় সংকটের মধ্যে রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছেন। এমন সময় হুমায়ুন কবিরের প্রস্তাব তাঁর জন্য একটি বিকল্প পথ খুলে দিয়েছে। কবির জানিয়েছেন, রেজিনগরে তাঁর প্রভাব এতটাই যে মমতা চাইলে সেখানে তাঁর জয় প্রায় নিশ্চিত।




















