লোকসভাতেও ‘আসল তৃণমূল’? দলনেতা হওয়ার জল্পনার মাঝেই বিস্ফোরক পোস্ট কাকলির!

কলকাতা: বিধানসভার পর এবার কি তবে লোকসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের হাতছাড়া হতে চলেছে সংসদীয় দলের ‘মালিকানা’? রাজ্য রাজনীতিতে এখন এই জল্পনাই তুঙ্গে। জল্পনা ছড়িয়েছে, দিল্লিতে তৃণমূলের লোকসভার নতুন দলনেতা ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us

কলকাতা: বিধানসভার পর এবার কি তবে লোকসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের হাতছাড়া হতে চলেছে সংসদীয় দলের ‘মালিকানা’? রাজ্য রাজনীতিতে এখন এই জল্পনাই তুঙ্গে। জল্পনা ছড়িয়েছে, দিল্লিতে তৃণমূলের লোকসভার নতুন দলনেতা হতে চলেছেন বারাসতের চারবারের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। যদিও এই বিষয়ে নিজে মুখে কিছু স্বীকার করেননি তিনি। তবে এই তীব্র রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে এক বিস্ফোরক পোস্ট করে তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি ও ‘নীতিগত ভুল’ নিয়ে সরব হলেন বর্ষীয়ান এই নেত্রী।

কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের রাজনৈতিক সম্পর্ক চার দশকেরও বেশি সময়ের। তৃণমূল সুপ্রিমোর অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ভরসার হাত হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। ছাব্বিশের নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগে পর্যন্ত লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের (Chief Whip) দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন কাকলি। কিন্তু মাসখানেক আগে হঠাৎই তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এখান থেকেই ফাটলের সূত্রপাত। এর পরেই ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর (I-PAC) বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে কাকলি দাবি করেন, আইপ্যাক দলের সর্বনাশ করেছে৷ তিনি দলের সমস্ত পদ ত্যাগ করেন।

   

নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও শুভেন্দুর সাথে গোপন আঁতাত

পদত্যাগের ঠিক পরেই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের তরফে হঠাৎই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাতেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গুঞ্জন শুরু হয়, প্রাক্তন সহযোদ্ধা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পর্দার আড়ালে কোনও গোপন আঁতাত হয়েছে তাঁর। বিধানসভার পর এবার লোকসভার সাংসদদের মধ্যেও ভাঙন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সোমবারই স্পিকারের কাছে চিঠি?

সূত্রের খবর, আগামী রবিবার অর্থাৎ ৭ জুন প্রায় কুড়ি জন তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে, আগামী সোমবার, যেদিন দিল্লিতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের হাই-প্রোফাইল বৈঠক রয়েছে, ঠিক সেদিনই লোকসভার স্পিকারের কাছে এই সাংসদদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জমা দেওয়া হতে পারে। সেই চিঠিতেই লোকসভায় তৃণমূলের নতুন দলনেতা হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম প্রস্তাব করা হতে পারে বলে জোর গুঞ্জন।

এক্স হ্যান্ডেলে বিস্ফোরক পোস্ট

এই সমস্ত জল্পনার মাঝেই শুক্রবার নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করেন কাকলি। তিনি লেখেন, “আপনার কি মনে হয়, একটি রাজনৈতিক পরিবারের চারবারের সাংসদ, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থেকে চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তিনি নিজের কথা ভাবেন? এটি নীতির বিরুদ্ধে রায় এবং শাসনের ব্যর্থতা।”

নিজের এই বার্তার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, স্রেফ স্বার্থের জন্য কেউ চার দশক কারও সাথে থাকে না। পাশাপাশি, ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলের এই পরিণতির জন্য পূর্বতন সরকারের ‘শাসনের ব্যর্থতা’ এবং দলের নীতিগত ভুলকেই সরাসরি দায়ী করেছেন তিনি৷

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google