তমলুক: বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক ভাঙনে এবার যোগ হল এক নতুন অধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গেল বিদায়ী শাসক দলের ক্ষমতা। ঘাসফুল শিবিরের হাত থেকে চলে গেল রাজ্যের প্রথম কোনও জেলা পরিষদ। শুক্রবার মেদিনীপুরের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ৭০টি। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এর মধ্যে ৫৬টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগুরু হিসেবে বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তখন বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ১৪টি আসন। জেলা পরিষদের সভাধিপতির গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তৃণমূলের প্রবীণ রাজনীতিবিদ উত্তম বারিককে, যিনি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থীও ছিলেন। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই তিনি আর জেলা পরিষদমুখী হচ্ছিলেন না। অবশেষে শুক্রবার আচমকাই পদত্যাগ করলেন তিনি।
ইস্তফা দেওয়ার পর উত্তম বারিক জানান, “আজ মেদিনীপুরের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। আগামী ৬-৭ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে একটি হিয়ারিং বা শুনানি হবে, তারপরই পদত্যাগের আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।”
সভাধিপতির ইস্তফার পর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ এখন নবান্নের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য সরকার চাইলে এখন এখানে কোনও সরকারি আধিকারিককে ‘প্রশাসক’ হিসেবে বসিয়ে জেলা পরিষদ পরিচালনা করতে পারে। অথবা, জেলা পরিষদের বর্তমান জয়ী সদস্যদের মধ্য থেকেই অন্য কাউকে নতুন সভাধিপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে।
উত্তম বারিকের এই পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা বামদেব গুচ্ছাইত। তিনি বলেন, “উনি পদত্যাগ করে থাকলে ওনাকে অভিনন্দন। উনিও এলাকার উন্নয়ন চান বলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুরের সত্যিকারের উন্নয়ন যদি কেউ করে থাকেন, তবে তিনি শুভেন্দু অধিকারী।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে উত্তমবাবুকে শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নযজ্ঞের শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ছাব্বিশের নির্বাচনে জিতে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর থেকেই রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের ভাঙন অব্যাহত। ইতিমধ্যেই দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কালীঘাটের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন এবং তৈরি করেছেন ‘আসল তৃণমূল’। জেলায় জেলায় রাতারাতি তৃণমূল কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ হাতছাড়া হওয়া তৃণমূলের জন্য এক মস্ত বড় ধাক্কা।




















