অপারেশন সিঁদুর চলাকালে ভারত পাকিস্তানের (Pakistan) একটিও ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনকে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে দেয়নি। ভারত পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং তুরস্কের বায়রাক্তার ড্রোনগুলোকে ধ্বংস করেছে। এর পরে, পাকিস্তান এখন চিন থেকে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র এবং তুরস্ক থেকে উন্নত ড্রোন কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রিপোর্ট অনুসারে, পাকিস্তান চিন থেকে মাঝারি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং তুরস্ক থেকে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) ক্রয় করে তার বায়ু প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার চেষ্টা করছে।
শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্র ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছে যে, পাকিস্তান বিমান বাহিনী চিন ও তুরস্ক থেকে যে পাঁচটি প্রাণঘাতী অস্ত্র কিনছে, তার মধ্যে রয়েছে চিনের এইচকিউ-৯ দূরপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, সেইসাথে এইচকিউ-১৬, এইচকিউ-১৭ এবং এল-১৭ মাঝারি পাল্লার বায়ু প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র। তুরস্কের কারায়েল ড্রোনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
চিনের বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও তুরস্কের ড্রোন কিনবে পাকিস্তান
পাকিস্তান চিনের এইচকিউ-৯ (HQ-9) নামক একটি ব্যবস্থা কেনার কথাও বিবেচনা করছে, যা রাশিয়ার এস-৪০০ (S-400)-এর প্রতিদ্বন্দ্বী এবং এর আঘাত হানার পাল্লা প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। এটি যুদ্ধবিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
মনুষ্যবিহীন আকাশযান প্রসঙ্গে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে যে, পাকিস্তান তুরস্ক থেকে কারায়েল ইউএভি এবং লোইটারিং মিউনিশন ক্রয় করছে। কারায়েল ড্রোনটি মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ পাল্লার উড্ডয়নে সক্ষম এবং তুরস্কের দাবি, এটি গোয়েন্দা নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট হামলা চালাতে পারে। এছাড়াও, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে রাডার সাইট এবং বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করতে তুরস্কের লোইটারিং মিউনিশন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় আক্রমণের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছিল, যে কারণে পাকিস্তান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ভারতীয় বিমান হামলা মোকাবিলায় পাকিস্তানের পূর্ব সীমান্তে চিনা ব্যবস্থা মোতায়েন করা যেতে পারে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর নজরদারি ও হামলা উভয়ের জন্যই তুর্কি ড্রোন এবং লোইটারিং মিউনিশন ব্যবহার করা যেতে পারে।
ভারত পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। ভারতও ক্রমাগত অস্ত্রশস্ত্রে বিনিয়োগ করছে এবং পাকিস্তানের চেয়ে বহুগুণ বেশি অস্ত্র ক্রয় করছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে এবং এস-৪০০ সুদর্শন, আকাশ ও ডিআরডিও-নির্মিত কাউন্টার-ড্রোনগুলোর পাল্লা বাড়াচ্ছে। আধুনিক যুদ্ধের ধরণ বোঝার জন্য ভারত গত এক বছর ধরে ড্রোন যুদ্ধের ওপর ব্যাপকভাবে মনোযোগ দিয়েছে। ভারত নিজস্বভাবে বিভিন্ন ধরণের ড্রোন তৈরি করছে এবং একই সাথে দূরপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতার জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর করছে।



















