নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে। (Energy lockdown)আর তার আঁচ এসে পৌঁছেছে ভারতেও। এই প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে ‘এনার্জি লকডাউন’ নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার কি আবার কোভিডের মতো কঠোর লকডাউন জারি করতে পারে? এই উদ্বেগের মধ্যেই শুক্রবার সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য, দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো। তবে বৈঠকের আগেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল চাপানউতোর। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কোভিড সময়ের লকডাউনের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন। তাঁর মন্তব্য ঘিরেই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
আরও দেখুনঃকাশী বিশ্বনাথের রাস্তা চওড়া করতে ফের রবি থেকে চলবে বুলডোজার
যদিও এই আশঙ্কাকে একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনওভাবেই কোভিডের মতো লকডাউন ফেরানো হবে না। তিনি বলেন, “লকডাউন নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সরকার এমন কোনও পদক্ষেপের কথা ভাবছেই না।”
একইসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কথা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক কমানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা যেমন HPCL, BPCL ও IOC-কে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি করতে পারে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ বজায় থাকবে এবং দামও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
নির্মলা সীতারমন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। যে সমস্ত রিফাইনারি বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল এনে ভারতে তা পরিশোধন করে রফতানি করে, তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ধার্য করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়বে এবং রফতানির কারণে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমবে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য মানুষের মধ্যে অযথা ভয় তৈরি করছে। বাস্তবে এমন কোনও পরিস্থিতি নেই।”



















