হাওড়া: শ্যামপুরের মৌলা নেতাজি বিদ্যালয়ে হিন্দু ছাত্রীদের প্রতি অশ্লীল মন্তব্য ও হয়রানির অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়েছে (Shyampur)। মুসলিম ছাত্রদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় বজরং দল মাঠে নামায় স্কুল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।হাওড়া জেলার শ্যামপুর থানা এলাকার মৌলা নেতাজি বিদ্যালয়ে এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র এবং অভিযোগকারীদের দাবি অনুসারে, কয়েকজন মুসলিম ছাত্র দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের হিন্দু ছাত্রীদের উদ্দেশে অশ্লীল মন্তব্য, ইঙ্গিতবাহী কথাবার্তা ও হয়রানি করে আসছিল। ছাত্রীরা প্রথমে ভয়ে কাউকে কিছু বলতে সাহস পায়নি। কিন্তু অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকায় কয়েকজন হিন্দু ছাত্র প্রতিবাদ করে। অভিযোগ, তখনই ওই মুসলিম ছাত্ররা তাদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।
পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্ররা বাড়িতে জানায়। খবর পেয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। অনেকেই স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আগেও অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা বজরং দলের কাছে সাহায্য চান। খবর পেয়ে বজরং দলের সদস্যরা দ্রুত স্কুলে পৌঁছান।স্কুলে পৌঁছানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
আরও দেখুনঃ পুশ-ইন নিয়ে বিতর্কের মাঝেই শুভেন্দুর মন্তব্য ঘিরে চর্চা
অভিযোগ অনুসারে, প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার পাঁজা স্কুলের গেট বন্ধ করে দেন। বজরং দলের সদস্যরা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে গেট বন্ধ রাখা হয়। এদিকে কয়েকজন হিন্দু ছাত্র গেটের বাইরে এসে তাদের কষ্টের কথা জানাতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার পাঁজা তাদেরও সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছাত্ররা কান্নায় ভেঙে পড়ে তাদের অভিজ্ঞতার কথা বাইরে দাঁড়িয়ে বলার চেষ্টা করছিল।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, এই ঘটনা একদিনের নয়। দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছিল। ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেক অভিভাবক মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেয়েরা স্কুলে পড়তে আসে লেখাপড়া করতে,কোনও বিশেষ ধর্মের ছাত্রদের হাতে হয়রানির শিকার হতে নয়।
প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষ নীরব থাকলে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করা হবে।”বজরং দলের কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু গেট বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁরা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।



















