নয়াদিল্লি: রাতের অন্ধকারে আগুনের গ্রাসে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির তুঘলকাবাদ৷ এলাকার একটি বহুতল আবাসনে ভয়াবহ আগুন লেগে প্রাণ হারালেন ৩ জন। নিহতদের মধ্যে এক যুবক (২২) এবং দুই মহিলা রয়েছেন। ঘটনায় আরও দু’জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। শুক্রবার গভীর রাতের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
কীভাবে ছড়াল এই আগুন?
পুলিশ ও দমকল সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত আনুমানিক আড়াইটে নাগাদ তুঘলকাবাদের ১ নম্বর গলির ওই ছয় তলা ভবনে আগুন লাগে। প্রাথমিক তদন্তে দমকলের অনুমান, একতলার পার্কিং এরিয়ায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিপত্তি ঘটে। ওই সময় সেখানে একটি ইলেকট্রিক স্কুটার চার্জে বসানো ছিল। শর্ট সার্কিট থেকে মুহূর্তের মধ্যে ওই ই-স্কুটার এবং পার্কিংয়ে থাকা আরও ছ’টি দু-চাকার গাড়িতে আগুন ধরে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা ও দমবন্ধ করা কালো ধোঁয়ায় দ্রুত ঢেকে যায় ভবনের সিঁড়ি এবং ওপরের তলগুলি। ফলে বেরোনোর রাস্তা না পেয়ে ভেতরেই আটকে পড়েন ঘুমন্ত আবাসিকরা।
রুদ্ধশ্বাস উদ্ধারকাজ ও ছাদের তালা ভাঙা
খবর পেয়েই দমকলের ৪টি ইঞ্জিন, ক্যাটস (CATS) অ্যাম্বুলেন্স এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। উপস্থিত হন ডিসিপি (DCP), এসিপি (ACP)-সহ পদস্থ আধিকারিকরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দমকল কর্মীরা ভবনের ভেতর থেকে মোট ৮ জনকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া আবাসিকদের তড়িঘড়ি সফদরজং হাসপাতাল এবং এইমস (AIIMS) ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজ চলাকালীন এক অভাবনীয় দৃশ্যের সাক্ষী থাকেন দমকল কর্মীরা। বিষাক্ত ধোঁয়ার হাত থেকে বাঁচতে ভবনের দুই কিশোরী ছাদে দৌড়েছিলেন। কিন্তু ছাদের দরজা তালাবন্ধ থাকায় তাঁরা সেখানেই আটকে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দমকল কর্মীরা ছাদে পৌঁছন এবং তালা কেটে ওই দুই কিশোরীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৩টে ৪৫ মিনিট নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ভোর ৪টের মধ্যে তা সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়।
তাজা হল হাউজ রানির স্মৃতি
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন দিল্লির হাউজ রানি এলাকায় একটি ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ ফেসিলিটিতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ২৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। শুক্রবার রাতের তুঘলকাবাদের এই ঘটনা রাজধানীর বুকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বহুতলের নিরাপত্তা এবং বিশেষ করে ই-স্কুটার চার্জিংয়ের ঝুঁকি নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।


















