কালনা: পূর্ব বর্ধমানের কালনা ব্লকের ভগবন্তপুর ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হরে কৃষ্ণ মণ্ডলের বিরুদ্ধে (Smuggling)দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গার বালি ও মাটি পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, সরকারি ত্রিপল এবং ত্রাণসামগ্রী চুরির অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে। দুর্নীতির এই অভিযোগ সামনে আসতেই স্থানীয় গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ফেটে পড়ে।
The same TMC Gram Panchayat Pradhan Hare Krishna Mondal is now receiving 🤣🤣🤣🤣 public treatment from the locals😭😭😭😭 https://t.co/8oPTKLQrHX pic.twitter.com/nlO8hb8DgT
— Hindavi Swarajya(Bengali Hindu) (@harcoresanatani) June 12, 2026
শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ধরা পড়ে প্রধান হরে কৃষ্ণ মণ্ডলকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই গণধোলাইয়ের শিকার হতে হয়। ডিম ছোড়া হয়, চড়-থাপ্পড়ে জর্জরিত হয়ে পড়েন তিনি।ঘটনাটি ভগবন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে গঙ্গা থেকে অবাধে বালি ও মাটি তোলা এবং পাচার চলছিল। এই পাচারের সঙ্গে হরে কৃষ্ণ মণ্ডলের নাম জড়িয়ে ছিল বলে অভিযোগ।
আরও দেখুনঃ শ্যামপুরের স্কুলে হিন্দু ছাত্রীদের অশ্লীল মন্ত্যব্য! মুসলিম ছাত্রদের বিরুদ্ধে মাঠে বজরং দল
গ্রামবাসীদের দাবি, প্রধানের ছত্রছায়ায় একটি সিন্ডিকেট এই অবৈধ কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল। ফলে নদীর ভাঙন বেড়েছে, পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি, বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিতরণের জন্য আসা সরকারি ত্রিপল ও ত্রাণসামগ্রী চুরির অভিযোগও উঠেছে। এসব নিয়ে গ্রামে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল অনেকদিন ধরে।অভিযোগ সামনে আসার পর গ্রামবাসীরা আর চুপ করে থাকেননি।
তাঁরা হরে কৃষ্ণ মণ্ডলের ছবি সম্বলিত “নিখোঁজ” পোস্টার সারা এলাকায় সেঁটে দেন। পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয় বিরোধী কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও রাস্তায় নেমে আসেন। “দুর্নীতিবাজ প্রধান চাই না”, “আমাদের টাকা ফেরত দাও” এমন স্লোগানে এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে অবশেষে হরে কৃষ্ণ মণ্ডলকে ধরে ফেলেন ক্ষুব্ধ জনতা।
তাঁকে প্রকাশ্যে টেনে বের করার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় এলোপাথাড়ি মারধর। চড়, থাপ্পড়, লাথি কিছুই বাদ যায়নি। কেউ কেউ ডিম ছুড়ে মারেন। মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকলেও প্রথম দিকে তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে অবশ্য বাহিনী এগিয়ে এসে হরে কৃষ্ণ মণ্ডলকে উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা রামকৃষ্ণ দাস বলেন, “আমরা বছরের পর বছর দেখে যাচ্ছি। নদীর বালি চলে যাচ্ছে, ত্রাণের জিনিস চুরি হয়ে যাচ্ছে। অথচ কেউ কিছু বলতে সাহস পায়নি। আজ আর সহ্য হয়নি।” আরেক অভিভাবক জানান, দুর্নীতির কারণে গ্রামের উন্নয়ন থেমে আছে। টাকা যেখানে যাওয়ার কথা, সেখানে পৌঁছাচ্ছে না।



















