কলকাতা: পাঁচ বছর আগের সেই ভয়াবহ ঘটনার কথা আজও অনেকের মনে দাগ কেটে আছে। (Baharuddin)বাংলাদেশের কুমিল্লায় দুর্গা পূজার প্যান্ডেলে কোরান শরিফকে দুর্গা প্রতিমার পায়ের কাছে রাখার অভিযোগে যে আগুন জ্বলে উঠেছিল, তা শুধু একটি মন্দির বা পূজামণ্ডপ নয়, পুরো হিন্দু সম্প্রদায়কে ছাই করে দিয়েছিল। অভিযোগ ছিল, এটি ধর্ম অবমাননার ঘটনা।
Five years ago, in Comilla, Bangladesh, under a Durga Puja pandal, a horrific conspiracy was allegedly hatched against Hindus by placing a Quran under the feet of the Durga idol.
What followed was severe violence: over 500 Hindu homes were set on fire, and more than 23 Hindus… pic.twitter.com/fFpSfavZKv
— Tathagata Roy (@tathagata2) June 12, 2026
ফলে কয়েক দিনের মধ্যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে হিংসা। কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়, মন্দির ভাঙচুর হয়। খবর অনুসারে, পাঁচশোর বেশি হিন্দু পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অন্তত ২৩ জন হিন্দু নিহত হন। সেই ক্ষত এখনও অনেকের মনে তাজা।কিন্তু ঘটনার পর যখন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়, তখন চিত্রটা পুরোপুরি উলটে যায়।
আরও দেখুনঃ মার্কিন হামলায় ৩ নাবিকের মৃত্যু! হরমুজ প্রণালীতে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ ভারতের
ফুটেজে দেখা যায়, একজন মুসলিম যুবক নিজে কোরান শরিফ নিয়ে প্যান্ডেলে ঢুকছেন এবং সেটি প্রতিমার কাছে রেখে যাচ্ছেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক জানান, তাকে এই কাজ করতে বলেছিলেন বাহারুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। বিনিময়ে দেওয়া হয়েছিল পঞ্চাশ হাজার টাকা। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে পুলিশ বাহারুদ্দিনকে খুঁজতে শুরু করে। কিন্তু তিনি তখনই গায়েব হয়ে যান। কোনো খোঁজ মেলেনি।
সেই বাহারুদ্দিনকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে মাত্র দু’দিন আগে। কলকাতায় তাকে দেখা গেছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় একটি ভিডিও। এই আবহে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়। তিনি দাবি করেছেন আজ সকালে কলকাতা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তথাগত আরও বলেছেন তিনি এই খবরটি সমাজ মাধ্যমে দেখেছেন। খবরে বলা হয়েছে, তার স্ত্রী, ছেলে, বাবা-মা সহ আটজন পরিবারের সদস্য কলকাতায় শান্তিতে বসবাস করছিলেন। তাদের কাছে ভারতীয় নথি আধার কার্ড, রেশন কার্ড সবই ছিল। তথাগত দাবি করলেও কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
কীভাবে এসব নথি পেলেন, কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এলেন এসব প্রশ্ন এখন উঠছে।ঘটনার বিস্তারিত জানতে গেলে ফিরে যেতে হয় ২০২১ সালের অক্টোবরে। কুমিল্লার নানুয়া দিঘির পাড়ের দুর্গা পূজা মণ্ডপে সেই ঘটনা ঘটে। প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ছবি কোরান প্রতিমার পায়ের কাছে। রাগে ফেটে পড়ে উত্তেজিত জনতা। একের পর এক হামলা শুরু হয় হিন্দু এলাকায়। ঘরবাড়ি পুড়ছে, মানুষ ছুটছে আশ্রয়ের খোঁজে।
অনেক পরিবার সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। সেই সময়ের ছবি আজও চোখে জল এনে দেয়। একদিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অজুহাত, অন্যদিকে নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন।পুলিশ তদন্তে যখন বেরিয়ে আসে যে এটি একটি সাজানো ষড়যন্ত্র, তখন অনেকের চোখ খুলে যায়। যুবক ইকবাল হোসেনকে চিহ্নিত করা হয়।
তিনি নাকি মসজিদ থেকে কোরান নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু পর্দার পেছনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নাম উঠে আসে বাহারুদ্দিনের। তিনি তখন কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের। অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা। যদিও এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু তদন্ত আর এগোয়নি বলে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


