কলকাতা: বাংলায় নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। (AIMIM JUP alliance)প্রার্থীরাও নিজেদের কেন্দ্রে প্রচারে নেমে পড়েছেন নিয়ম মেনে। চলছে জনসংযোগ। এর মধ্যেই তেলেঙ্গানা থেকে বড় বার্তা দিলেন মিম নেতা আসাদুদ্দিন ওআইসি। আসাদুদ্দিন ওয়াইসির নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ূন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেআইউপি)-এর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠন করেছে। এই ঘোষণা করেছেন ওয়াইসি নিজে।
জোটটি রাজ্যের সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত আসনগুলোতে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়েছে গুঞ্জন। বাংলায় মিমের আধিপত্য বাড়ছিল অনেকদিন ধরেই। বিশেষ করে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং মুসলিম অধ্যুষিত জেলা গুলিতে মিম তাদের শক্তি বাড়াচ্ছে দিনের পর দিন। ওয়াইসি রবিবার বলেছেন, “এআইএমআইএম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ূন কবীরের নেতৃত্বাধীন জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট করে লড়বে।”
এই জোটের অধীনে মোট ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে। এর মধ্যে এআইএমআইএম লড়বে প্রায় ৮টি আসনে বীরভূমে ৩টি, মুর্শিদাবাদে ৩টি এবং মালদায় ২টি। বাকি আসনগুলো এজেআইউপির। হুমায়ূন কবীর, যিনি বাবরি মসজিদ নির্মাণের ইস্যুতে আলোচিত হয়েছেন এবং তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হয়ে নিজের দল গঠন করেছেন, এই জোটকে “সংখ্যালঘু সমাজের ঐক্যের প্রতীক” বলে বর্ণনা করেছেন।
হুমায়ূন কবীর বলেছেন, “বাবরি মসজিদের ইস্যু মুসলিম ভোটারদের মনে গভীর আবেগ জাগিয়েছে। এটা ভোটে রূপান্তরিত হবে।” তিনি দাবি করেছেন যে, এই জোট যদি ভালো ফল করে, তাহলে রাজ্যে প্রথমবারের মতো মুসলিম মুখ্যমন্ত্রী বা উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেখা যেতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, “যদি ভোট বিভক্ত হয়, তাহলে আমরা সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করব।” এজেআইউপি ইতিমধ্যে ১৮২টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে কবীর নিজে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং নওদা থেকে লড়বেন।
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোটার প্রায় ৩০ শতাংশ, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, বীরভূমের মতো জেলায় তাদের প্রভাব বেশি। এই আসনগুলো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস জোটের মধ্যে ভোট ভাগ হলে এই জোট সংখ্যালঘু ভোটকে একত্রিত করে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধাক্কা দিতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এটা মমতা বন্দোপাধ্যায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে কারণ তৃণমূল সংখ্যালঘু ভোটের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে মিম-হুমায়ুন জোট তৃণমূলের কাছে অশনি সংকেত হতে পারে।



















