মার্কিন সংস্থা ইউএসসিআইআরএফ (SP Vaid USCIRF)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই রিপোর্টে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জনসংখ্যার দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন নিয়ে একটি সমীক্ষা করা হয়েছে। তবে এই রিপোর্টকে ঘিরে এবার সরব হলেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) এসপি বৈদ।
জম্মুতে এক বিবৃতিতে এসপি বৈদ বলেন, ইউএসসিআইআরএফ প্রায়ই এমন রিপোর্ট প্রকাশ করে, যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাঁর দাবি, এই সংস্থার ছয়জন সদস্যকে মার্কিন সরকার নিয়োগ করে এবং তাঁদের পটভূমি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বৈদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন পাকিস্তান-ঘনিষ্ঠ, যার ফলে ভারতের প্রতি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় জনসংখ্যার পরিবর্তনের উদাহরণ তুলে ধরেন। বৈদ বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের সময় সেখানে হিন্দুদের সংখ্যা ছিল প্রায় ২১ শতাংশ। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৫ থেকে ২ শতাংশে। একইভাবে, বাংলাদেশ স্বাধীনতার সময় সেখানে হিন্দুদের সংখ্যা ছিল প্রায় ২১-২২ শতাংশ, যা এখন কমে প্রায় ৭-৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
এর বিপরীতে ভারতের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৯.৫ শতাংশ। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে ভারতে ধর্মীয় সহাবস্থান ও স্বাধীনতা বজায় রয়েছে।
এসপি বৈদের এই মন্তব্য একটি বৃহত্তর যৌথ বিবৃতির অংশ, যেখানে মোট ২৭৫ জন স্বাক্ষরকারী রয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন ২৫ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, ১১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত আমলা যাঁদের মধ্যে ১০ জন প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত এবং ১৩১ জন অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর আধিকারিক। তাঁদের সম্মিলিত বক্তব্যে ইউএসসিআইআরএফ-এর রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং সেটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলেও ইঙ্গিত করা হয়েছে।
এই ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একাংশ মনে করছে, আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্ট নিয়ে এমন প্রকাশ্য সমালোচনা ভারতের অবস্থানকে স্পষ্ট করে। আবার অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, এই ধরনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ আরও গভীরভাবে যাচাই করা উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির ধর্মীয় জনসংখ্যার পরিবর্তন একটি জটিল বিষয়, যা ঐতিহাসিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা কারণে প্রভাবিত। তাই শুধুমাত্র পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সবসময় সহজ নয়।



















