গুরগাঁও: গুরগাঁওয়ের একাধিক স্কুলে ভুয়ো বোমা হুমকির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। (school bomb threat)দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত ব্যক্তি ৩০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিক, যিনি গত প্রায় ৯ বছর ধরে অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম সৌরভ বিশ্বাস ওরফে মাইকেল। তিনি প্রথমে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং পরে পশ্চিমবঙ্গে ভুয়ো নথিপত্রের মাধ্যমে নিজের পরিচয় গোপন করে বসবাস শুরু করেন। এই ঘটনায় নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও দেখুনঃ গেরুয়া রাজ্যে সনাতন ধর্মে ফিরলেন মাদ্রাসা শিক্ষকের নাতি ইয়াকুব!
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৮ জানুয়ারি। ওইদিন গুরগাঁও শহরের একাধিক স্কুলে ই-মেলের মাধ্যমে বোমা রাখা হয়েছে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন।
তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ, বোম্ব স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড এবং দমকল বাহিনী স্কুলগুলিতে তল্লাশি চালায়। তবে কোথাও কোনও বিস্ফোরক মেলেনি। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, এই হুমকি সম্পূর্ণ ভুয়ো। তবুও এই ঘটনায় যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তা সহজে কাটেনি।
এরপর তদন্তে নামে গুরগাঁও পুলিশের সাইবার শাখা। ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ই-মেলের উৎস খোঁজার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় দেড় মাসের তদন্তের পর ১৯ মার্চ গুজরাট থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রথমদিকে অভিযুক্ত একটি গাড়ি নির্মাণ সংস্থায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে ধীরে ধীরে তিনি ডিজিটাল মার্কেটিং এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ শেখেন এবং গত পাঁচ বছর ধরে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছিলেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত একটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে বাংলাদেশের এক ব্যক্তি, মমুনুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। ওই ব্যক্তি তাকে অর্থের বিনিময়ে জিমেল আইডি সরবরাহ করতে বলেন। বিনিময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত প্রায় ৩০০টি জিমেল অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সরবরাহ করেন এবং এর জন্য প্রায় ২৫০ মার্কিন ডলার পান। সেই অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে একটি ব্যবহার করেই গুরগাঁওয়ের স্কুলগুলিতে ভুয়ো বোমা হুমকি পাঠানো হয়।
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র শারীরিক নিরাপত্তা নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিও এখন অপরাধের বড় মাধ্যম হয়ে উঠছে। ভুয়ো পরিচয় এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সহজেই বড় ধরনের আতঙ্ক ছড়ানো সম্ভব হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের খোঁজে তদন্ত চলছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।



















