মহাভারতে ত্রিপুরা রাজের কন্যা চিত্রাঙ্গদা অর্জুনকে ভালোবেসে নারী রূপে ধরা দিতে চেয়েছিলেন। (Anaya Bangar)চেয়েছিলেন রূপান্তর। পুরুষালি চিত্রাঙ্গদা মদনের আশীর্বাদে হয়ে উঠেছিলেন আকর্ষণীয় নারী। তার রূপে মুগ্ধ হয়েছিলেন মহাভারতের মহাবীর। এ যুগেও ফের একবার পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তর।
তবে কোনও আশীর্বাদে নয়। রীতিমত চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে পুরুষ থেকে নারী হলেন প্রাক্তন ভারতীয় খেলোয়াড় এবং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের মেয়ে আরিয়ান বাঙ্গার। রূপান্তর এখনকার যুগে বহুল প্রচলিত হলেও বিশেষ করে একজন নামকরা সেলিব্রিটির পরিবারে এই ঘটনা বিরল।
আরও দেখুনঃ ভবিষ্যতে অন্য মুখ্যমন্ত্রী এমন করলে…..! আইপ্যাক মামলায় পর্যবেক্ষণ আদালতের
জানা গিয়েছে, রূপান্তরের আগে অনন্যা নিজের শুক্রাণু সংরক্ষণ করেছেন। এর ফলে ভবিষ্যতে জৈবিক সন্তানের সম্ভাবনা খোলা থাকছে। যদিও প্রাকৃতিকভাবে মাতৃত্ব সম্ভব নয়, তবে সারোগেসির মাধ্যমে মা হওয়ার সুযোগ তাঁর সামনে রয়েছে। এই দিকটি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের জেন্ডার ট্রানজিশন এখন আর অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিশ্বজুড়েই বহু মানুষ নিজের প্রকৃত লিঙ্গ পরিচয় খুঁজে নিতে এই পথ বেছে নিচ্ছেন। তবে কোনও পরিচিত সেলিব্রিটি পরিবারের সদস্য এই সিদ্ধান্ত নিলে তা স্বাভাবিকভাবেই বেশি আলোচনায় আসে। কারণ সমাজের এক বড় অংশ এখনও এই বিষয়টিকে পুরোপুরি সহজভাবে নিতে পারেনি।
অনন্যার এই সিদ্ধান্ত সেই মানসিকতার পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত করছে। নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার এবং নিজের পরিচয় বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা এই বার্তাই যেন আরও জোরালোভাবে সামনে আনছে এই ঘটনা। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করছে, বিজ্ঞান ও চিকিৎসা প্রযুক্তি আজ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত পরিচয় এবং জীবনযাপনের সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।
এছাড়াও, এই রূপান্তরের মাধ্যমে সম্পর্ক ও পরিবার গঠনের ধারণাতেও নতুন দিগন্ত খুলে যাচ্ছে। অনন্যা ভবিষ্যতে সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান নিতে পারেন, আবার ব্যক্তিগত সম্পর্কও গড়ে তুলতে পারেন যা আধুনিক সমাজে ক্রমশ স্বীকৃতি পাচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা সমাজে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে লিঙ্গ পরিচয় এবং LGBTQ+ সম্প্রদায়ের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে এর বড় ভূমিকা থাকতে পারে। পরিবার ও সমাজের সমর্থন পেলে এই পরিবর্তন আরও সহজ হয়ে ওঠে।



















