নয়াদিল্লি: আইন ও রাজনীতির সংঘাত নতুন করে শিরোনামে। আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলায় আজ গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানায়, অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উপস্থিতি কোনওভাবেই “স্বাভাবিক পরিস্থিতি” নয় এবং এটি একটি “অস্বস্তিকর” ঘটনা।
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং এন ভি আনজারিয়ার বেঞ্চ এই মামলার শুনানি চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যদি ভবিষ্যতে অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রীও তদন্ত সংস্থার অভিযানে হস্তক্ষেপ করেন, তাহলে কি কেন্দ্রীয় সংস্থারা কোনো পদক্ষেপ নেবে না ? এই প্রশ্ন ঘিরেই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
আরও দেখুনঃ কেন্দ্রের নতুন নিয়মে অতিরিক্ত খরচ কমবে, স্বস্তিতে বিমানযাত্রীরা
ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে উপস্থিত হন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন নিয়ে বেরিয়ে যান। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, এটি “ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার” এবং এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। ইডি আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে, এই ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হোক।
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সংঘাত আরও প্রকট হয়েছে। রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী শ্যাম দিবান যুক্তি দেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে যদি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তা ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির এই ধরনের আইনি ক্ষমতা নেই।
তিনি আরও বলেন, সিবিআই, এনসিবি, ইডি কিংবা ডি আর আই কোনও সংস্থারই সরাসরি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার নেই। একইভাবে রাজ্য স্তরের সংস্থাগুলিও এই ক্ষমতা ভোগ করে না। ফলে এই মামলাটি একটি নজিরবিহীন আইনি প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে, ইডির দাবি এই ঘটনাকে সাধারণ প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি তদন্তের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের প্রশ্ন। কেন্দ্রীয় সংস্থার মতে, যদি এই ধরনের হস্তক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে তদন্ত প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে বিরোধীরা অভিযোগ করছে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করছে। অন্যদিকে বিজেপি শিবিরের দাবি, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় তাই এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।



















