কলকাতা: ইতিমধ্যেই তৃণমূল তাদের প্রার্থী তালিকা (West Bengal Election) ঘোষণা করে দিয়েছে। উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন মুখ হিসেবে প্রার্থী হলেন,দলের বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে কল্যাণ পুত্র অন্যদিকে এই আসনে সিপিএম তাদের প্রার্থী হিসেবে মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করেছে, ফলে লড়াই যে বেশ জমজমাট হতে চলেছে তা বলাই যায়।
পেশায় আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সওয়াল করে ইতিমধ্যেই পরিচিতি অর্জন করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, আরজি কর কাণ্ড, এই ধরনের আলোচিত মামলাগুলিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি, বেআইনি হোর্ডিং সংক্রান্ত মামলা, ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক মৃত্যুর ঘটনা, এসব ক্ষেত্রেও রাজ্যের হয়ে আইনি লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন।
এছাড়াও আরজি কর-কাণ্ড, চিকিৎসকদের আন্দোলন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য সংক্রান্ত মামলা, কাঁথির সমবায় ব্যাঙ্ক নির্বাচন এবং সন্দেশখালির গণধর্ষণ মামলার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতেও তিনি রাজ্যের হয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন।
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার ভোটের ময়দানে নিজের কাজ দেখাতে চলেছেন শীর্ষণ্য। রাজনৈতিক ময়দান কতটা জয়লাভ এনে দেয় সেদিকে নজর গোটা রাজনৈতিক মহলের। উত্তরপাড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করায় রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেখছেন অনেকে। নতুন মুখ হলেও তাঁর অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমি এই লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।
অন্যদিকে ১৯২টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল বামফ্রন্ট। প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। উত্তরপাড়ায় প্রার্থী হলেন CPM-এর মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। বামফ্রন্টের অন্যতম তরুণ মহিলা মুখ মীনাক্ষী।
অনেকে অনুমান করেছিলেন হয়তো এবার উত্তরপাড়া বিধানসভায় বামেদের প্রার্থী হতে চলেছেন মীনাক্ষী। সোমবার সেই জল্পনাই সত্যি হল। আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে উত্তরপাড়া বিধানসভার বাম প্রার্থী হিসেবে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করেন বিমান বসু।
ভোটের এই খেলায় প্রথম প্রার্থী নন মীনাক্ষী। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থেকে লড়েছিলেন এই তরুণ নেত্রী। এবার লড়াইয়ে নামার আগে মীনাক্ষী বলেছেন, ‘এটা আমাদের লড়াই। নির্বাচন আমাদের কাছে একটা বড় রাজনৈতিক লড়াই। এই গোটা পার্টি, সারা বছর মানুষের রুটি রুজির স্বার্থে এই লড়াইটা প্রতিদিন লড়ছে মাটিতে থেকে। উত্তরপাড়াতে আমাদের পার্টি, লাল ঝাণ্ডা, প্রত্যেকটা দিন একদম মাটি কামড়ে পড়ে আছে। ক্যান্ডিডেট এখানে আমাদের প্রত্যেকটা কর্মী। আমরা গোটা পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি সিটেই লড়ব। কোথাও বামপন্থী, কোথাও সহযোগী দল। আমরা কাউকে বেছে নিইনি। আমরা কোথাও তৃণমূল-বিজেপিকে এক ফোঁটা জায়গা দেব না।’




















