নয়াদিল্লি: জ্বালানি সঙ্কট বেড়েছে দেশে। অভাব দেখা দিয়েছে এলপিজি র। (Fuel Crisis)বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হোটেল থেকে রেস্তোরাঁ। এই আবহেই ভারতের পাশে দাঁড়ালেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলছে যুদ্ধ। হরমুজ প্রণালীতে তেল আমদানি-রফতানি বন্ধ। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল যায়, এবং ভারতের প্রায় অর্ধেক ক্রুড অয়েল আমদানি এই পথ দিয়ে আসে।
ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েতের মতো দেশ থেকে ভারতের তেল সরবরাহ এখন ঝুঁকির মুখে। দাম বাড়ছে, শিপিং খরচ বেড়েছে, এবং সাপ্লাই চেইন অস্থির হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত নতুন উৎস খুঁজছে যাতে অর্থনীতি ও শিল্প চালু রাখা যায়।
আরও দেখুনঃ ৭০ কোটির জাল নোট-বিলাসবহুল গাড়ি সমেত দম্পতি গ্রেফতার বেলঘরিয়ায়
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চান। তিনি বলেছেন, “ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা বড় অর্থনীতি। তার শক্তির চাহিদা অন্য কোনো দেশের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। কানাডা একটি এনার্জি সুপারপাওয়ার হিসেবে এই সুযোগ নিতে প্রস্তুত। আমরা ভারতকে তেল, এলএনজি (লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস), এলপিজি এবং ক্রিটিকাল মিনারেলস সরবরাহ করতে পারি।” কার্নির এই বক্তব্য মুম্বইয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক এবং নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার সময় এসেছে।
কানাডার কাছে বিশাল তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ১৭০ বিলিয়ন ব্যারেল প্রমাণিত রিজার্ভ। ট্রান্স মাউন্টেন এক্সপ্যানশন পাইপলাইন চালু হওয়ায় এশিয়ায় তেল রফতানি সহজ হয়েছে। পশ্চিম উপকূলে এলএনজি এক্সপোর্ট ক্যাপাসিটি বাড়ছে, যা ২০৩০ সাল নাগাদ ৫০ মিলিয়ন টন এবং ২০৪০ সালে ১০০ মিলিয়ন টন পর্যন্ত যেতে পারে।
কানাডা ভারতকে লো-কার্বন, দায়িত্বশীলভাবে উৎপাদিত এনার্জি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া ইউরেনিয়াম সাপ্লাইয়ের একটি ২.৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই হয়েছে, যা ক্যামেকো কোম্পানি ভারতের অ্যাটমিক এনার্জি ডিপার্টমেন্টকে ২০২৭-২০৩৫ সাল পর্যন্ত সরবরাহ করবে। এটি ভারতের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম এবং স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, তারা কানাডা থেকে যেকোনো এনার্জি প্রোডাক্ট কিনতে প্রস্তুত। রাশিয়া থেকে তেল কমানোর চাপ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এসবের মধ্যে কানাডা একটি স্থিতিশীল অংশীদার হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের আলোচনা চলছে, যা ২০২৬-এর শেষ নাগাদ শেষ হতে পারে। বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩০ সাল নাগাদ ৭০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার পরিকল্পনা।
এই প্রস্তাব ভারত-কানাডা সম্পর্কের নতুন অধ্যায়। গত কয়েক বছরের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর কার্নির নেতৃত্বে সম্পর্ক রিসেট হচ্ছে। এনার্জি, প্রযুক্তি, ডিফেন্স, এআই সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ছে। ভারতের জন্য এটি এনার্জি সিকিউরিটির নতুন দরজা খুলছে, যাতে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে।



















