ইসলামাবাদ: সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার পর পাক কাশ্মীর এবং আকসাই অঞ্চল নিয়ে (India map)একটি পোস্ট করে আমেরিকার বাণিজ্য দফতর। এক্স হ্যান্ডেলে সেই পাস্ট ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। এখন পাকিস্তানের দাবি অনুসারে, আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতর (ইউএসটিআর) তাদের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এই পোস্ট সরিয়ে নিয়েছে।
এই ঘটনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত গত ৭ ফেব্রুয়ারি। ইউএসটিআর-এর অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে ভারত-আমেরিকার মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ঘোষণা করা হয়। সেই পোস্টের সঙ্গে যুক্ত ছিল ভারতের একটি মানচিত্র। মানচিত্রটিতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুরো অঞ্চল পিওকে, গিলগিট-বালতিস্তান এবং চিনের দাবি করা অকসাই চিন ভারতের সীমানার মধ্যে দেখানো হয়েছে।
আরও দেখুন: বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল! বিএনপির জয়ে ভারতের জন্য কী পরিবর্তন আসছে?
কোনো বিতর্কিত লাইন বা আলাদা চিহ্ন ছিল না। এটি ভারতের অফিসিয়াল মানচিত্রের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।এই মানচিত্র দেখে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা এটিকে ‘অবৈধ’ এবং রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই মানচিত্র জম্মু-কাশ্মীরকে বিতর্কিত অঞ্চল হিসেবে না দেখিয়ে ভারতের অংশ বলে চিত্রিত করেছে।
যা আমেরিকার দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাকিস্তান ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস এবং ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। তারা দাবি করে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুসারে কাশ্মীরের চূড়ান্ত মর্যাদা গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত।পাকিস্তানের এই তীব্র আপত্তির পর কয়েকদিনের মধ্যেই সোমবার বা তার আশেপাশে ইউএসটিআর-এর এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ওই পোস্টটি সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়া হয়।
বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা-সংক্রান্ত প্রেস রিলিজ এখনও ওয়েবসাইটে রয়েছে, কিন্তু মানচিত্রসহ পোস্টটি আর দেখা যায় না। আমেরিকার পক্ষ থেকে এই পোস্ট সরানোর কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এটি কি কোনো ভুল ছিল, নাকি কূটনৈতিক চাপে সিদ্ধান্ত তা নিয়ে জল্পনা চলছে।ভারতীয় কূটনীতিকরা এই ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। অনেকে বলছেন, এটি ভারত-আমেরিকার সম্পর্কের গভীরতা এবং ভারতের ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতার প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনের ইঙ্গিত।
দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার মানচিত্রে পিওকে ও অকসাই চিনকে বিতর্কিত হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। এবারের মানচিত্রে তা না থাকায় অনেকে মনে করছেন, এটি একটি অ-ঘোষিত নীতিগত পরিবর্তনের সংকেত। তবে কেউ কেউ বলছেন, এটি হয়তো বাণিজ্য-সংক্রান্ত গ্রাফিক্সে অসাবধানতাবশত হয়েছে, এবং পরে সংশোধন করা হয়েছে।পাকিস্তানের দিক থেকে এটি একটি ‘বড় জয়’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তারা বলছে, তাদের দৃঢ় অবস্থানের কারণেই আমেরিকা পিছু হটেছে। এই ঘটনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ কাশ্মীর ইস্যু তাদের জাতীয়তাবাদী আবেগের কেন্দ্রবিন্দু।




















