নয়াদিল্লি: বিশ্বে জনসংখ্যার নিরিখে বহুদিন ধরেই শীর্ষস্থান দখল করে আছে ভারত (hourly birth rate)। তবে সাম্প্রতিক একটি পরিসংখ্যান বলছে, শুধু মোট জনসংখ্যাতেই নয়, প্রতি ঘণ্টায় জন্মহারেও ভারত এখন বিশ্বে সবার ওপরে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ঘণ্টায় ভারতে গড়ে ২,৬৫১টি শিশুর জন্ম হচ্ছে, যা অন্য সব দেশের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন, যেখানে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১,০১৬টি শিশুর জন্ম হচ্ছে। তৃতীয় স্থানে নাইজেরিয়া সেখানে প্রতি ঘণ্টায় জন্মহার ৮৫৭। পাকিস্তান রয়েছে চতুর্থ স্থানে, যেখানে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৭৮৬টি শিশুর জন্ম হয়। তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, তাদের জন্মহার প্রতি ঘণ্টায় ৫১২। এরপরের স্থানগুলোতে রয়েছে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (৪৯৯), ইথিওপিয়া (৪৬৯), আমেরিকা (৪১৮) এবং নবম স্থানে বাংলাদেশ, যেখানে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩৯৮টি শিশুর জন্ম হচ্ছে।
আরও দেখুন: রবির সন্ধ্যেতে কি কারণে উত্তেজনা ছড়াল ভারত-পাক সীমান্তে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান শুধু জনসংখ্যার আকারের কারণে নয়, বরং জনসংখ্যার গঠন ও বয়সভিত্তিক বণ্টনের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। ভারতের মতো দেশে তরুণ জনসংখ্যার হার বেশি হওয়ায় জন্মহারও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের মোট উর্বরতার হার (TFR) ধীরে ধীরে কমছে, যা ভবিষ্যতে জন্মহারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই চিত্র অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ভারতে প্রতি ঘণ্টায় এত সংখ্যক শিশুর জন্ম মানে, প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক নতুন নাগরিক যুক্ত হচ্ছে দেশের জনসংখ্যায়। এর ফলে একদিকে যেমন শ্রমশক্তি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে, অন্যদিকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামোর ওপর চাপও বাড়ে।
জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জন্মহার বেশি থাকার অন্যতম কারণ হলো স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার অসম বণ্টন, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব। তবে ভারতে গত এক দশকে পরিবার পরিকল্পনা ও নারীর শিক্ষার হার বৃদ্ধির ফলে জন্মহার ধীরে ধীরে কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে চীনের মতো দেশে দীর্ঘদিনের এক-সন্তান নীতির প্রভাব এখনও জনসংখ্যার কাঠামোয় স্পষ্ট। ফলে তাদের জন্মহার অনেকটাই কমে গেছে। একইভাবে আমেরিকার মত উন্নত দেশগুলোতেও জন্মহার তুলনামূলকভাবে কম, কারণ সেখানে পরিবার ছোট রাখার প্রবণতা বেশি।
ভারতের জন্য এই জন্মহার একদিকে যেমন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়, তেমনই চ্যালেঞ্জও তৈরি করে। যদি এই বিপুল তরুণ জনসংখ্যাকে সঠিকভাবে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া যায়, তাহলে তা অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কিন্তু যদি সেই সুযোগ না মেলে, তাহলে বেকারত্ব ও সামাজিক সমস্যাও বাড়তে পারে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, প্রতি ঘণ্টায় জন্মহারের দিক থেকে ভারত এখন বিশ্বে শীর্ষে। এই পরিসংখ্যান শুধু একটি সংখ্যার গল্প নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনীতি, সমাজ ও উন্নয়নের দিকনির্দেশও বহন করছে।




















