জম্মু: জম্মু-কাশ্মীরের সাম্বা জেলায় আন্তর্জাতিক সীমান্তে (Pakistani) রবিবার সন্ধ্যায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর জওয়ানরা রামগড় সেক্টরের বর্ডার আউটপোস্ট বল্লারের কাছে একজন পাকিস্তানি নাগরিককে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাত প্রায় ৭টার দিকে, যখন সূর্য ডুবে অন্ধকার নেমে আসছিল।
বিএসএফ-এর সতর্ক নজরদারি ও সার্ভেইল্যান্সের কারণে অনুপ্রবেশকারীর গতিবিধি ধরা পড়ে, এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়। অফিসাররা জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এবং তার পরিচয়, উদ্দেশ্য ও পিছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সাম্বা সেক্টর ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তের একটি সংবেদনশীল অংশ।
আরও দেখুন: বৃদ্ধ মৃত্যুতে অভিযুক্ত কাউন্সিলার রবীন্দ্রনাথকে সাসপেন্ড করল তৃণমূল
এখানে অতীতে অনুপ্রবেশ, জঙ্গি অনুপ্রবেশ এবং স্মাগলিংয়ের চেষ্টা বারবার হয়েছে। রামগড় সেক্টরে ফেন্সিং ও সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম থাকলেও অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অনেকে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করে। এবারের ঘটনায় বিএসএফ-এর অ্যালার্টনেসের কারণে অনুপ্রবেশ ব্যর্থ হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীকে ধরার পর সীমান্তে নিরাপত্তা আরও কড়া করা হয়েছে।
বিএসএফ জওয়ানরা চারদিকে পেট্রোলিং বাড়িয়েছে, এবং নাইট ভিশন ডিভাইস ও ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালাচ্ছে। এই ঘটনা সীমান্তে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, কারণ এরকম চেষ্টা প্রায়ই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকে।অফিসিয়াল সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির কাছ থেকে কোনও অস্ত্র বা বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি, কিন্তু তার উদ্দেশ্য কী ছিল তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। অতীতে সাম্বা সেক্টরে অনেক অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে বা গুলি করে মারা হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, জানুয়ারি মাসে রামগড় সেক্টরের চেক মজরা এলাকায় একজন পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীকে গুলি করে মারা হয়েছিল, যার নাম মোহাম্মদ আরিফ (৬১), লাহোরের বাসিন্দা। তার দেহ পাক রেঞ্জার্সের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা দেখায় যে সীমান্তে সতর্কতা কখনও কমানো যায় না। বিশেষ করে রিপাবলিক ডে-র পর এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টার মধ্যে এমন ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।বিএসএফ-এর এই সফল অপারেশনকে জাতীয় নিরাপত্তার জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সীমান্তরক্ষী বাহিনী বলছে, তারা ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং কোনও অনুপ্রবেশকে সহ্য করবে না। এই ঘটনার পর সাম্বা জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, কারণ অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রায়ই স্মাগলিং বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। পাকিস্তানের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি, কিন্তু অতীতে এমন ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।




















