কলকাতা: উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তুলসি অধিকারীর (Tulsi Adhikari)অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ঘটনার জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে দল থেকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে বলেও সূত্রের খবর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুলসি অধিকারীর পরিবারের সঙ্গে পাশের একটি বাড়ির অবৈধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। অভিযোগ, ওই নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভায় লিখিত অভিযোগও জানিয়েছিল অধিকারী পরিবার। বিষয়টি নিয়ে পুরসভার পক্ষ থেকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।
রবিবার সকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেদিন তুলসি অধিকারীর বাড়িতে পুরসভা এবং ব্যারাকপুর থানার পুলিশ যায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। পরিবারের অভিযোগ, তার কিছুক্ষণ পরেই স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য সেখানে উপস্থিত হন এবং অধিকারী পরিবারকে হুমকি দেন। এরপর বচসা চরমে উঠলে তুলসি অধিকারীর উপর হামলা চালানো হয়। তাঁকে মারধর করা হয় এবং লাথি মারা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তুলসি অধিকারীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পরই শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা সরাসরি কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন থানায়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠায় এবং পরে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিরোধী দলগুলো তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ করে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে জানানো হয়, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যায় মৃত তুলসি অধিকারীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তিনি পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেন। পার্থ ভৌমিক বলেন, “তুলসি অধিকারী একজন সজ্জন মানুষ ছিলেন। কেন এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে দলের পক্ষ থেকে কাউন্সিলারকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং সেই বিষয়টি পুরসভাকে জানানো হয়েছিল। পুরসভা থেকে নোটিস পাঠানো হলেও কেন কাউন্সিলার ব্যক্তিগতভাবে গিয়ে বচসায় জড়িয়ে পড়লেন, তা দল ভালোভাবে নেয়নি। এই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সাংসদের দাবি, পুরো ঘটনার তদন্ত আইনানুগ পদ্ধতিতেই চলবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি পরিবারকে আশ্বস্ত করেছেন, প্রশাসন তাদের পাশে রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলেও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। এখন নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও পুলিশের তদন্তের উপরই নির্ভর করবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ।




















