ঢাকা: বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫-এ পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস (২৭)-(Dipu Chandra Das)কে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা এখনও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আবহকে উত্তপ্ত করে রেখেছে। দিপুকে কারখানার এক অনুষ্ঠানে নবী মুহাম্মদ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত করে একদল লোক পিটিয়ে হত্যা করে, লাশ গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পুলিশ বলছে, অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এটা হয়তো কর্মক্ষেত্রের ঈর্ষা বা ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে উস্কানি দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২১ জনেরও বেশি গ্রেফতার হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত একজন সাবেক মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম ইয়াসিন আরাফাত।কিন্তু এই হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে বিতর্ক উঠেছে।
আরও দেখুন: গরীবীতে ডুবে দেশ! রাওয়ালপিন্ডিতে চুরি ৬০০০ ম্যানহোলের ঢাকনা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তার সঙ্গে যুক্ত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র কিছু সমর্থক ও সদস্যরা গ্রেফতার হয়ে ব্যাক্তিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। ঢাকা ও অন্যান্য এলাকায় ছোট ছোট মিছিলে তারা বলছেন, দিপুর হত্যা ছিল “আল্লাহর নির্দেশ” এবং আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়া উচিত নয়। কেউ কেউ বলছেন, “যে আল্লাহর নবীর অবমাননা করে, তার শাস্তি আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন এতে মানুষের হস্তক্ষেপ কেন?”
এই ধরনের বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।জামায়াতের অফিসিয়াল বিবৃতিতে অবশ্য এই হত্যার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেছেন, “ইসলাম কোনো অতিরিক্ত বিচার বা মব ভায়োলেন্স সমর্থন করে না। এটা আইনের বিরুদ্ধে।” কিন্তু দলের কিছু স্থানীয় নেতা বা সমর্থকরা ভিন্ন সুরে কথা বলছেন।
এনসিপি, যা ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের পর গড়ে উঠেছে এবং জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে, তারাও এই বিক্ষোভে যুক্ত। তারা দাবি করছেন, গ্রেফতার গুলো “একতরফা” এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের চাপে হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, “ধর্ম অবমাননা কোনো অপরাধ নয় যদি আল্লাহ নিজে শাস্তি দেন।”এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে।
হিন্দু সংগঠনগুলো বলছে, এটা সংখ্যালঘু নির্যাতনকে জায়েজ করার চেষ্টা। অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে মুহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, আইন সবার জন্য সমান এবং তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পিছনে ব্লাসফেমির প্রমাণ নেই এটা কর্মক্ষেত্রের ঝামেলা থেকে উদ্ভূত। দিপুর বাবা রবিলাল দাস বলেছেন, “আমার ছেলেকে মেরে তারা শয়তানের মতো আচরণ করেছে। বিচার চাই।”
এই ঘটনা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে জামায়াত-এনসিপি-র মতো দলগুলোর উত্থান হিন্দু সম্প্রদায়কে আরও ভয় দেখাচ্ছে। অনেকে বলছেন, যে দলগুলো শরিয়া আইনের কথা বলে, তারা যদি এমন হত্যাকে “আল্লাহর নির্দেশ” বলে সমর্থন করে, তাহলে সংখ্যালঘুরা কোথায় নিরাপদ? বিক্ষোভ চলছে, কিন্তু সমাজে বিভাজন আরও গভীর হচ্ছে।




















