লখনউ: আমেরিকা-ইসরায়েল যৌথ আক্রমণে শেষ রাতে মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বময় কর্তা খামেনেইর (Shia protest)। এই মৃত্যুতে একদিকে যেমন শোক মিছিল জম্মু কাশ্মীরে। টিক তেমনই বাদ পড়েনি যোগী রাজ্য উত্তর প্রদেশ। গতকাল রাতে তেহরানে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন যে, এই অভিযান ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার জন্য। ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া পরে নিশ্চিত করে যে, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ খামেনেই এই হামলায় নিহত হয়েছেন।
তাঁর সঙ্গে আরও অনেক শীর্ষ নেতা ও সেনা কর্মকর্তা শহীদ হয়েছেন। ইরান ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে এবং প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই খবর ভারতে পৌঁছতেই শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ঢেউ ওঠে। কাশ্মীরের পর এবার লখনউ।আজ সকালে লখনউয়ের প্রধান ইমামবাড়া চত্বরে শতাধিক মানুষ জড়ো হন। কালো পোশাক পরে, কালো পতাকা উড়িয়ে তারা মিছিল বের করেন। নারী-পুরুষ মিলে নৌহা পড়ছেন, শোকের গান গাইছেন।
আরও দেখুন: বিশ্বে যুদ্ধ পরিস্থিতি! এর মধ্যেই ভারত-পাক সীমান্তে উত্তেজনা
অনেকে চিৎকার করে স্লোগান দিচ্ছেন “মুর্দাবাদ আমেরিকা”, “মুর্দাবাদ ইসরায়েল”, “খামেনেই শহীদ”, “জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে”। একজন প্রতিবাদকারী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “যাদের রক্তে বিশ্বাসঘাতকতা, তারা প্রতারণা করে খামেনেইকে হত্যা করেছে। এক খামেনেই মরলে হাজার খামেনেই জন্ম নেবে। ইসরায়েল আর আমেরিকা প্রতারক” আরেকজন যোগ করেন, “আমেরিকা শান্তির নামে প্রতারণা করেছে, যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে, কিন্তু আমাদের নেতা ভয় পাননি, মাথা নত করেননি।
এক খামেনেই শহীদ হলে হাজার খামেনেই উঠে দাঁড়াবে, এই যুদ্ধ চলবে ট্রাম্প সহজে জিততে পারবে না।” লখনউয়ের শিয়া নেতারা, যেমন মৌলানা ইয়াসুব আব্বাস, এই হত্যাকে “খুবই দুর্ভাগ্যজনক” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ব ভাবছে খামেনেই মরলে ইরান শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু না আমেরিকা ও ইসরায়েলকে ইরান থেকে যথাযথ জবাব পেতে হবে। আজ সন্ধ্যায় ইমামবাড়ায় বড় ধরনের প্রতিবাদ ও মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।
অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল অ্যান্ড বোর্ড ৩ দিনের শোক ঘোষণা করেছে সবাই কালো পোশাক পরবেন, বাড়িতে কালো পতাকা উড়বে।লখনউয়ে শিয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের আধ্যাত্মিক যোগাযোগ রয়েছে। মহররম, আশুরার সময় ইরানের নেতাদের ছবি, বাণী প্রচারিত হয়।
খামেনেইকে তারা ইমাম খোমেনির উত্তরসূরি হিসেবে দেখেন, যিনি ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেনের প্রতিরোধকে সমর্থন করেছেন। তাই তাঁর মৃত্যু এখানকার মানুষের কাছে ব্যক্তিগত ক্ষতি। একজন প্রতিবাদকারী বললেন, “খামেনেই ছিলেন মজলুমদের আশ্রয়। তাঁর চিন্তা, আদর্শ মরবে না। শত শত খামেনেই জন্ম নেবে!”



















