শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় লাইন অফ কন্ট্রোল (India Pakistan LoC) বরাবর রবির ভোরে ছড়াল উত্তেজনা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানরা পাকিস্তানি একটি ড্রোনকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন, যখন সেটি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছিল। রবিবার সকাল সাড়ে ছয়টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে, যা সীমান্তের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য সতর্কতার আরেকটি সংকেত।অফিসারদের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, পুঞ্চের ডিগওয়ার এলাকায় একটি ফরওয়ার্ড পোস্টে মোতায়েন সেনারা ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে আকাশে অজানা আলো দেখতে পান।
প্রথমে সন্দেহ হয় এটা পাকিস্তানের ড্রোন। ড্রোনটি LoC পেরিয়ে ভারতীয় দিকে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়ায়। সঙ্গে সঙ্গে জওয়ানরা সতর্ক হয়ে ওঠেন এবং ড্রোনটিকে নামানোর জন্য এক ডজনেরও বেশি রাউন্ড গুলি চালান। গুলির আওয়াজে ড্রোনটি দ্রুত পাকিস্তানি দিকে ফিরে যায় বলে জানা গেছে। তবে ড্রোনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
আরও দেখুন: খামেনেই র মৃত্যুতে শোক মিছিল ভারতে
এই ঘটনা গত কয়েকদিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ঘটল। মাত্র তিন দিন আগে, ২৭ ফেব্রুয়ারি গুলপুর সেক্টরে আরেকটি সন্দেহজনক ড্রোন দেখা যায়। সেখানেও সেনারা গুলি চালিয়েছিলেন, এবং ড্রোনটি পাকিস্তানি দিকে ফিরে যায়। এরপর সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায়, যাতে কোনো অস্ত্র, মাদক বা বিস্ফোরক ফেলে দেওয়া হয়নি তা নিশ্চিত করা যায়।
পুঞ্চ সেক্টরে এ ধরনের ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা নতুন নয়, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এর ফ্রিকোয়েন্সি বেড়েছে। অনেকে মনে করছেন, এগুলো মূলত মাদক চোরাচালান বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।পুঞ্চ জেলা LoC-এর একটি সংবেদনশীল অংশ। এখানকার পাহাড়ি এলাকা, ঘন জঙ্গল এবং কঠিন ভূখণ্ডের কারণে নজরদারি করা চ্যালেঞ্জিং। ভারতীয় সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, রাডার এবং অন্যান্য কাউন্টার-ইউএভি প্রযুক্তি মোতায়েন করেছে।
তবু এ ধরনের ছোট ছোট ড্রোন, যেগুলো কম উচ্চতায় উড়ে আসে, ধরা পড়া কঠিন হয়ে পড়ে। আজকের ঘটনায় গুলি চালানোর পর সেনারা এলাকায় আরও কড়া নজরদারি শুরু করেছেন। ফরওয়ার্ড এরিয়ায় পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে, এবং যেকোনো অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনা LoC-এর সামগ্রিক পরিস্থিতির একটা ছবি তুলে ধরছে।
গত কয়েক মাসে সীমান্তে শেলিং কমলেও, ড্রোন ও অন্যান্য অ-প্রচলিত উপায়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়, কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনী বারবার প্রমাণসহ দাবি করে আসছে যে, এগুলো পাকিস্তানি সেনা বা তাদের সমর্থিত গ্রুপের কাজ। পুঞ্চের মতো এলাকায় ড্রোন দিয়ে অস্ত্র বা মাদক ফেলার চেষ্টা আগেও হয়েছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে জম্মুর আরএস পুরা সেক্টরে ড্রোন থেকে ফেলা প্রায় ৬ কেজি মাদক উদ্ধার করা হয়েছিল, যার মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা।



















