শ্রীনগর: শ্রীনগরের রাস্তায় আজ শোকের ছায়া নেমে এসেছে। (Khamenei death)শত শত কাশ্মীরি শিয়া মুসলিম জমায়েত হয়ে মিছিল বের করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের হত্যার প্রতিবাদে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় পুরো কাশ্মীর উপত্যকায় শোকের পরিবেশ ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে।
গতকাল শনিবার ভোররাতে তেহরানে ইরানের সরকারি কম্পাউন্ডে ব্যাপক হামলা চালায় আমেরিকা ও ইসরায়েল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন যে, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে উল্টে দেওয়া। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পরে নিশ্চিত করে যে, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ খামেনেই এই হামলায় শহীদ হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা, সেনা কর্মকর্তা এবং পরিবারের সদস্যরাও নিহত হয়েছেন বলে খবর।
আরও দেখুনঃ “খামেনেই আর বেঁচে নেই”- বিস্ফোরক দাবি নেতানিয়াহুর, তেহরান সরাসরি অস্বীকার
ইরান সরকার ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে এবং প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।স্রিনগরের লাল চৌক, সাইদা কাদল, সোনাওয়ারি, বান্দিপোরা এসব এলাকায় আজ সকাল থেকেই মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েন। কালো পতাকা, আয়াতুল্লাহ খামেনেইয়ের ছবি হাতে নিয়ে তারা মিছিল করছেন। নারী-পুরুষ সবাই মিলে নৌহা পড়ছেন, শোকের গান গাইছেন। অনেকে চিৎকার করে বলছেন, “খামেনেই শহীদ হয়েছেন, কিন্তু তাঁর চিন্তা বেঁচে থাকবে।” আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান উঠছে “মুর্দাবাদ আমেরিকা”, “মুর্দাবাদ ইসরায়েল”।
কেউ কেউ বলছেন, এটা শুধু ইরানের নেতার হত্যা নয়, পুরো ইসলামি বিপ্লবের ওপর আঘাত।কাশ্মীরের শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে আয়াতুল্লাহ খামেনেই শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি একজন ধর্মীয় নেতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেনের প্রতিরোধ আন্দোলনকে সমর্থন করে এসেছেন। অনেকে তাঁকে “ইমাম খোমেনির উত্তরসূরি” হিসেবে দেখেন, যিনি ইসলামি বিপ্লবের আদর্শকে জীবন্ত রেখেছেন।
কাশ্মীরে শিয়া মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ রেখে চলেছেন। মহররমের সময় আশুরার মিছিলে ইরানের নেতাদের ছবি দেখা যায়, আরাজি মজলিসগুলোতে খামেনেইয়ের বাণী পড়া হয়। তাই তাঁর মৃত্যু এখানকার মানুষের কাছে ব্যক্তিগত ক্ষতির মতো লেগেছে।একজন প্রতিবাদকারী, যিনি নিজেকে হুসেইন বলে পরিচয় দেন, বললেন, “আজ আমাদের হৃদয় ছিন্নভিন্ন।
খামেনেই সাহেব ছিলেন মজলুমদের আশ্রয়। তিনি ফিলিস্তিনের জন্য লড়াই করেছেন, লেবাননের হিজবুল্লাহকে শক্তি দিয়েছেন। এই হত্যা শুধু ইরানের নয়, পুরো মুসলিম উম্মাহর ওপর আঘাত। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছি, কিন্তু আমাদের দুঃখ অসীম।”



















