কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্কে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তজনা এখনও কমেনি। কাঁকুলিয়া রোডে রবিবারের সেই তাণ্ডবে নাম জড়িয়েছে স্থানীয় ‘দাদা’ সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের। পুলিশ যখন তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছে, ঠিক তখনই এক গাড়ির ভিতর থেকে ফেসবুক লাইভ করে বোমা ফাটালেন পাপ্পু। তাঁর দাবি, ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে পুজোয় ব্যস্ত ছিলেন, আর এই অশান্তির নেপথ্যে রয়েছে বিজেপির ‘সংগঠনহীনতা’।
‘আমি বাড়িতে পুজো করছিলাম, অশান্তিতে ছিলাম না’
মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভে এসে পাপ্পু দাবি করেন, রবিবার রাতে তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। তাঁর বক্তব্য, “রবিবার আমার বাড়িতে মাঘী পূর্ণিমার পুজো ছিল। সকাল থেকে উপোস করে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পুজোয় ছিলাম। বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় আমাকে দেখা গিয়েছে, আমার স্ত্রীও লাইভ করছিলেন। সশরীরে বাড়িতে থাকলে ঝামেলায় যাব কীভাবে?”
ছবির বিতর্ক ও মোদী-শুভেন্দু প্রসঙ্গ Sona Pappu Facebook Live
গোলপার্ক কাণ্ডে ধৃত রাহুল দাস ওরফে বাবুসোনার সঙ্গে পাপ্পুর একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে তাঁর সাফাই, “কারও সঙ্গে ছবি থাকলেই কেউ দোষী হয়ে যায় না। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রাকেশ সিং বা নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে নীরব মোদীর ছবি তো আছেই। নীরব টাকা চুরি করে পালালে কি মোদীকে গ্রেফতার করা হবে? আমি জনপ্রতিনিধি, এলাকার ছেলে আমার কাছে আসতেই পারে।”
শুভেন্দুকে পাল্টা আক্রমণ
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় পাপ্পুকে কটাক্ষ করেছিলেন। পাল্টা জবাবে পাপ্পু বলেন, “শুভেন্দু বলেছিলেন আমি নাকি বিড়ি কুড়িয়ে খাই। ওঁর জানা উচিত আমার বাবার তিনটে সোনার দোকান আছে। উনি নিজেই তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়েছেন চুরির টাকা বাঁচাতে। দক্ষিণ কলকাতায় ওঁর দলের সংগঠন নেই, তাই দোষ চাপাতে আমার নাম নিচ্ছেন।”
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও গ্রেফতারি
রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকায় রবিবারের সেই গন্ডগোলে এখনও পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ময়দান ও সংলগ্ন এলাকা থেকে রাহুল দাস, শুভঙ্কর রায় এবং চঞ্চল দাস নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের গাড়িতে হামলা ও গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পাপ্পুর ফেসবুক লাইভের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে এবং তাঁর খোঁজে তল্লাশি জারি আছে।




















