‘ইন্ডাস্ট্রিকে বরবাদ করে দিয়েছেন!’ স্বরূপের গ্রেফতাতে বিস্ফোরক লকেট

কলকাতা: বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন টলিউডের ফেডারেশনের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas)। তাঁর বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি এবং অস্ত্র আইনে…

Swarup Biswas arrested in extortion and molestation case

কলকাতা: বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন টলিউডের ফেডারেশনের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas)। তাঁর বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি এবং অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করার পর থেকেই স্টুডিওপাড়ায় যেমন স্বস্তির হাওয়া, তেমনই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। রাজ্যে সরকারি পালাবদলের পর থেকেই ‘সর্বগ্রাসী’ স্বরূপের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছিলেন টেকনিশিয়ান থেকে পরিচালকদের একাংশ। বৃহস্পতিবার ফেডারেশনের সদস্য এক মহিলা মেকআপ আর্টিস্টকে কাজ না দেওয়া এবং তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হন তিনি। (Swarup Biswas arrested in extortion and molestation case)

স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারি নিয়ে আলিপুর আদালতের বাইরে মুখ খোলেন বিজেপি নেত্রী তথা অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, এই দুর্নীতি নতুন কিছু নয়। লকেটের কথায়, “স্বরূপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তো নতুন নয়। বারো বছর আগে আমি সাংবাদিক বৈঠক করে সবটা সামনে এনেছিলাম। স্বরূপ বিশ্বাস ও অরূপ বিশ্বাস দু’জনে মিলে ইন্ডাস্ট্রিকে বরবাদ করেছেন, শেষ করে দিয়েছেন।”

   

লকেটের আরও অভিযোগ, স্বরূপ একা ছিলেন না, তাঁর পেছনে ছিলেন বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি যাঁরা সর্বদা তাঁর ভুল সিদ্ধান্তে সায় দিতেন। স্টুডিওপাড়ার যে প্রভাবশালীদের কারণে বহু সাধারণ টেকনিশিয়ান ও শিল্পীর কাজ চলে গিয়েছে, তাঁদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

স্বরূপের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শিবপুরের বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষও। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ফেডারেশনের মাথায় বসে দিনের পর দিন দুর্নীতি চালিয়ে গেছেন স্বরূপ। ২০২১ সালে মুখ খুলেছিলাম বলে আমাকে ব্যান করা হয়েছিল। টেকনিশিয়ানদের চাপ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিছিল করানো হয়েছিল।” রুদ্রনীল যোগ করেন, পেটের ভাত জোগাতে অনেক টেকনিশিয়ান এতদিন মুখ বুজে এই অত্যাচার সহ্য করেছেন। আজ ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়েছে’ এবং তিনি এই দিনটার জন্যই অপেক্ষায় ছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে ফেডারেশনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করা স্বরূপ বিশ্বাসের সিদ্ধান্তই ছিল টলিপাড়ার শেষ কথা। কলাকুশলীদের একাংশের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে টলিউডে গোষ্ঠীতন্ত্র কায়েম করা এবং অবাধ্য হলে শিল্পীদের ‘ব্যান’ করার যে নোংরা সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার নেপথ্যে ছিলেন স্বরূপ। তবে তাঁর এই পতনের পর স্টুডিওপাড়ায় দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভের বাঁধ ভেঙেছে, নতুন করে সামনে আসতে শুরু করেছে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ।