বিপাকে ভারত! ব্যারেল প্রতি তেলের দামে রেকর্ড দর ধার্য করল সৌদি

saudi-raises-oil-price-impact-on-india

রিয়াদ: বিশ্ব তেলবাজারে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। (Saudi raises oil price)সৌদি আরব তার প্রধান রফতানি তেল ‘আরব লাইট’ ক্রুডের দাম এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য মে মাসে রেকর্ড উচ্চতায় তুলে দিয়েছে। যা ভারতের জন্য ও অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা।সৌদি আরামকো ঘোষণা করেছে, মে মাসের জন্য এশিয়ান রিফাইনারিদের কাছে আরব লাইট ক্রুডের অফিসিয়াল সেলিং প্রাইস (ওএসপি) আঞ্চলিক বেঞ্চমার্ক ওমান/দুবাই গড়ের উপর ১৯.৫০ ডলার প্রিমিয়ামে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এটি সৌদি আরবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রিমিয়ামের রেকর্ড।এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর সংকট। ইরান-সংশ্লিষ্ট যুদ্ধের ফলে বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রায় বন্ধের মুখে। ফলে তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে এবং দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১১০ ডলারের উপরে চলে গেছে।

   

আরও দেখুনঃ হাইভোল্টেজ লড়াই, ভবানীপুরে মমতার নমিনেশন ডে ফাইনাল

ভারত সহ এশিয়ার দেশগুলো, যারা সৌদি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা, তাদের জন্য এই দাম বৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলবে।সৌদি আরামকোর এই ঘোষণা অনেকের প্রত্যাশার চেয়ে কম হলেও রেকর্ড। কয়েকদিন আগে বাজার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করেছিলেন যে প্রিমিয়াম ৪০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৯.৫০ ডলারে স্থির হয়েছে, যা এপ্রিল মাসের তুলনায় ১৭ ডলার বেশি। এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে সর্বোচ্চ প্রিমিয়াম ছিল ৯.৮০ ডলার।

এবার সেই রেকর্ড অনেকখানি ছাড়িয়ে গেছে।এশিয়ার রিফাইনারি কোম্পানিগুলো এখন চিন্তিত। ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এই দেশগুলো সৌদি আরব থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে। দাম বাড়লে পেট্রোল-ডিজেলের দামও বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে। ভারতের মতো দেশে, যেখানে তেলের বড় অংশ আমদানি করতে হয়, এই পরিস্থিতি মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীর সংকট যতদিন চলবে, ততদিন তেলের দাম উচ্চতায় থাকবে। সৌদি আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রফতানিকারক। তারা এই সুযোগে নিজেদের রাজস্ব বাড়াতে চাইছে। কিন্তু একই সঙ্গে তারা বাজারের ভারসাম্যও রক্ষা করতে চায়, তাই প্রত্যাশিত ৪০ ডলারের প্রিমিয়াম না দিয়ে ১৯.৫০ ডলারে রেখেছে।এই দাম বৃদ্ধির ফলে এশিয়ার রিফাইনারিরা বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে।

রাশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী অন্যান্য দেশ থেকে তেল আমদানির সম্ভাবনা বাড়ছে। তবে সৌদি আরবের তেলের গুণগত মান এবং সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতার কারণে অনেকেই এখনও সৌদি তেলের উপর নির্ভরশীল।বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এই পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, শিল্প উৎপাদন সবকিছুর খরচ বেড়ে যায়। ইউরোপ ও আমেরিকাতেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়েছে।সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রভাব সরাসরি। ভারতে পেট্রোলের দাম যদি আরও বাড়ে, তাহলে দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। অনেক দেশ এখন কৌশলগত তেলের মজুত বাড়াচ্ছে এবং বিকল্প জ্বালানি সূত্র খুঁজছে।