ইসরায়েল-মার্কিন আক্রমণ আবহেই ইরানে গৃহযুদ্ধের ডাক নির্বাসিত যুবরাজের

reza-pahlavi-calls-for-iran-uprising-regime-change

ইরান: একদিকে সকাল থেকে মুহুর্মুহু এয়ার স্ট্রাইক করছে আমেরিকা-ইসরায়েল (Reza Pahlavi)। তাতেও রক্ষা নেই। আবার গোদের উপর বিষ ফোঁড়া দিয়ে গৃহযুদ্ধের ডাক দিলেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। আর এই ডাকেই এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে ইরান। পাহলভি প্রকাশ্যে ইরানের জনগণকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের শাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে “চূড়ান্ত লড়াই”, “দেশ পুনরুদ্ধার” এবং “স্থিতিশীল রূপান্তর”-এর মতো শব্দ, যা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছে।

এক আবেগঘন বার্তায় পাহলভি বলেন, “আমার প্রিয় স্বদেশবাসী, নিয়তির মুহূর্ত আমাদের সামনে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা এসে গেছে। এটি একটি মানবিক হস্তক্ষেপ, যার লক্ষ্য ইরানের দেশ বা জাতি নয়, বরং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের দমনযন্ত্র।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিও বার্তা দেন। পাহলভি ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন, বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে। তাঁর দাবি, ইরানের জনগণ স্বাধীন বিশ্বের স্বাভাবিক মিত্র এবং তারা এই সমর্থন ভুলবে না।

   

আরও দেখুনঃ যুবভারতীতে মিনি ডার্বি, আমনে সামনে মোহনবাগান-মহামেডান

তবে পাহলভির বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ইরানের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্দেশে। তিনি বলেন, “আপনারা শপথ নিয়েছেন ইরান ও ইরানের জনগণকে রক্ষা করার জন্য, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে নয়। জনগণের পাশে দাঁড়ান এবং একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবর্তনে সহায়তা করুন। অন্যথায় আপনারাও এই ডুবন্ত শাসনের সঙ্গে ডুবে যাবেন।” এই বার্তাকে অনেক বিশ্লেষক শাসন পরিবর্তনের সরাসরি আহ্বান হিসেবে দেখছেন।

পাহলভি আরও বলেন, চূড়ান্ত জয় জনগণের হাতেই গড়ে উঠবে। তিনি স্বদেশবাসীদের আপাতত ঘরে থাকার ও নিজেদের নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “উপযুক্ত সময় এলে আমি ঘোষণা করব, তখনই রাস্তায় নামবেন।” ইন্টারনেট বা স্যাটেলাইট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও তিনি রেডিও তরঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন বলে জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বহুদিন ধরেই ইরানে বিক্ষোভ ও অসন্তোষের স্রোত দেখা যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক দমনপীড়ন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে পাহলভির এই আহ্বান আন্দোলনের নতুন গতি আনতে পারে।

তবে অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, বিদেশি শক্তির সহায়তায় শাসন পরিবর্তনের আহ্বান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ইতিমধ্যেই বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলে। ফলে এই বার্তা শাসকগোষ্ঠীর পাল্টা কড়া পদক্ষেপ ডেকে আনতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইরানে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব তেলবাজার থেকে শুরু করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।