ইরানকে অস্ত্র ফেলতে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের! “নইলে নিশ্চিত মৃত্যু”

trump-warns-iran-to-lay-down-arms-middle-east-crisis

ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আরও আগুন ঢালল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বার্তা (Trump warns)। এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি সরাসরি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড, সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দেন অস্ত্র না ফেললে “নিশ্চিত মৃত্যুর” মুখোমুখি হতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, “ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের সদস্যদের বলছি আজ রাতেই অস্ত্র ফেলে দিন। তাহলে সম্পূর্ণ দায়মুক্তি পাবেন। না হলে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হবেন।” তাঁর বক্তব্য ছিল সরাসরি এবং কঠোর, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

   

আরও দেখুন: সারদার কিক্ততা এখন অতীত? রাজীব রাজ্যসভা প্রার্থী হতে কী বললেন কুণাল?

তিনি শুধু সামরিক বাহিনীকেই নয়, ইরানের সাধারণ নাগরিকদের প্রতিও বার্তা দেন। ট্রাম্প বলেন, “মহান ও গর্বিত ইরানের জনগণ, তোমাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে। ঘরের বাইরে বের হয়ো না। বাইরে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি। সর্বত্র বোমা পড়বে।” এই সতর্কবার্তা কার্যত ইঙ্গিত দেয় যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু বা আসন্ন।

এরপর আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “আমরা যখন শেষ করব, তখন তোমরা নিজের সরকার নিজেরা দখল করে নেবে। এটি হয়তো প্রজন্মের মধ্যে তোমাদের একমাত্র সুযোগ।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে অনেকেই সরাসরি শাসন পরিবর্তনের আহ্বান হিসেবে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, একটি সার্বভৌম দেশের জনগণকে সরকার দখলের আহ্বান জানানো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও বিতর্কিত পদক্ষেপ। এতে কূটনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, “বহু বছর ধরে তোমরা আমেরিকার সাহায্য চেয়েছ, কিন্তু কেউ তা দেয়নি। আজ তোমাদের এমন এক প্রেসিডেন্ট আছে, যিনি তোমাদের যা চাই তা দিতে প্রস্তুত। আমেরিকা তোমাদের পাশে রয়েছে, অপ্রতিরোধ্য শক্তি ও বিধ্বংসী ক্ষমতা নিয়ে।”

এই ভাষণ ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও দেশটির ঘনিষ্ঠ মহল এটিকে সরাসরি যুদ্ধঘোষণা হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)–এর বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বিগ্ন। রাষ্ট্রসংঘের কূটনীতিকরা বলছেন, এই ধরনের বক্তব্য সংঘাতের আগুনকে আরও উসকে দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য এমনিতেই বহুদিন ধরে অস্থির। ইরান, ইসরাইল ও আমেরিকার টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। তবে এবার পরিস্থিতি সরাসরি সামরিক সংঘাতে গড়াতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্টে দেখা যাচ্ছে, বহু মানুষ ঘরে আশ্রয় নিচ্ছেন, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ মজুত করছেন। অনেকে আবার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। কারণ যুদ্ধ শুরু হলে তার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ নাগরিকদেরই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য একদিকে ইরানের শাসনব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করার কৌশল হতে পারে, অন্যদিকে এটি ঘরোয়া রাজনৈতিক বার্তাও বহন করতে পারে। শক্ত অবস্থান দেখিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজের প্রভাব জাহির করার চেষ্টা বলেও কেউ কেউ মনে করছেন।