ইসলামাবাদ: আবার ধুরন্ধর! অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে খতম হল লস্কর-ই-তৈয়বার (LeT) একজন প্রভাবশালী কমান্ডার শেখ ইউসুফ আফ্রিদি৷ পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছে এই লস্কর কমান্ডার। একের পর এক অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের নিকেষ অভিযান বেশ চিন্তায় ফেলেছে পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলিকে৷
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের উপর প্রাণঘাতী হামলায় বার্তা উদ্বিগ্ন মোদীর
শেখ ইউসুফ আফ্রিদি লস্কর-ই-তৈয়বার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের একজন৷ সে জঙ্গি সংগঠনে চরমপন্থী যুবকদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং সংগঠিত করার কাজে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। বিশেষ করে সে পাকিস্তানে তালিকাভুক্ত আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেতা হাফিজ মুহাম্মদ সাঈদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত৷ হাফিজ সাঈদ ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বলে ভারত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অভিযুক্ত।
ঘটনার বিস্তারিত
স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা শেখ ইউসুফ আফ্রিদিকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করে। এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এই হত্যাকে “সংবেদনশীল” বলে উল্লেখ করেছে। তারা জঙ্গি সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ অথবা বহিরাগত শক্তি যুক্ত থাকা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: ফের ট্রাম্পের উপর প্রাণঘাতী হামলায় চাঞ্চল্য হোয়াইট হাউসে
শেখ ইউসুফ আফ্রিদির ভূমিকা
শেখ ইউসুফ আফ্রিদি লস্কর-ই-তৈয়বার সামরিক শাখায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করত৷ সে বিভিন্ন প্রদেশ থেকে চরমপন্থী যুবকদের নিয়োগ করে তাদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে পাঠাত বলে অভিযোগ রয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে সে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে ছিল। তাঁর মৃত্যু লস্কর-ই-তৈয়বার অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আরও পড়ুন: পুড়েছে মুখ, অচল পা! ‘অদৃশ্য’ খামেনেই কি এখন স্রেফ হাতের পুতুল?
পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠনগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দীর্ঘদিন ধরে চলছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তান প্রদেশে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড প্রায়ই ঘটে। এই ঘটনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে ভারত, এই ধরনের ঘটনাকে পাকিস্তানের জঙ্গি নেটওয়ার্ক দুর্বল করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।
পাকিস্তান সরকার এখনও কোনও সরকারিভাবে বিবৃতি দেয়নি। তবে সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত ত্বরান্বিত করেছে। হাফিজ সাঈদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিহত হওয়ায় লস্কর-ই-তৈয়বার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব
এই হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা আবারও তুলে ধরেছে। আফগানিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।




















