আগে যুদ্ধ বন্ধ, পরে পরমাণু চুক্তি! পাকিস্তানকে মাধ্যম করে ট্রাম্পকে নয়া প্রস্তাব ইরানের

তেহরান: পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে কি অবশেষে শান্তির ইঙ্গিত? আমেরিকার সঙ্গে স্থবির হয়ে পড়া শান্তি আলোচনা ফের শুরু করতে এক অভিনব ‘দ্বি-স্তরীয়’ পরিকল্পনা পাঠাল তেহরান। পাকিস্তানের…

Iran Two-Tier Peace Plan

তেহরান: পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে কি অবশেষে শান্তির ইঙ্গিত? আমেরিকার সঙ্গে স্থবির হয়ে পড়া শান্তি আলোচনা ফের শুরু করতে এক অভিনব ‘দ্বি-স্তরীয়’ পরিকল্পনা পাঠাল তেহরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাঠানো এই প্রস্তাবে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, বিতর্কিত পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনার আগে তারা আমেরিকার সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ বাণিজ্য ফের শুরু করতে চায়।

ইরানের নতুন ‘পিস ডিল’

অ্যাক্সিওস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পরমাণু কর্মসূচি স্থগিত করার বিষয়ে কোনও ঐক্যমত নেই। তাই তেহরান চাইছে প্রথমে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং হরমুজ প্রণালী থেকে মার্কিন অবরোধ সরানো হোক। দ্বিতীয়ত, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দ্বিতীয় স্তরে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে আলোচনায় বসবে ইরান।

   

ট্রাম্পের কড়া অবস্থান Iran Two-Tier Peace Plan

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আলোচনার জন্য বিশেষ দূত পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। তাঁর কথায়, “১৮ ঘণ্টার বিমান যাত্রা করে আলোচনার জন্য যাওয়ার কোনও মানে হয় না। ইরান আলোচনা করতে চাইলে আমায় ফোন (Call) করতে পারে।” তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে কোনও অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। আমেরিকা চায় ইরান অন্তত ১০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক।

হরমুজ প্রণালী ও বিশ্ব বাজার

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েল হামলার পর থেকে বিশ্ব বাজারে তেলের দামে আগুন লেগেছে। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যার নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে। বর্তমানে আমেরিকা ইরানের বন্দরে অবরোধ তৈরি করায় বৈশ্বিক অর্থনীতি টালমাটাল। ইরান দাবি করেছে, আলোচনার টেবিলে বসার আগে ওয়াশিংটনকে এই সামুদ্রিক ‘প্রতিবন্ধকতা’ সরাতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

পরবর্তী গন্তব্য রাশিয়া

পাকিস্তান ও ওমানের সঙ্গে আলোচনার পর সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত করার কথা রয়েছে আরাগচির। ক্রেমলিনের সঙ্গে এই বৈঠক আমেরিকার ওপর চাপ বাড়াতে ইরানের নতুন কৌশল বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

হোয়াইট হাউস ইরানের এই প্রস্তাব পেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। এখন দেখার, ফোনে কথা বলে কি এই জটিল জট কাটাতে পারবেন ট্রাম্প ও খামেনেই?