হাফিজ সইদের হয়ে আসরে পাকিস্তান, পহেলগাঁও হামলার তদন্ত ঘিরে ভারত-পাক সংঘাত

পাকিস্তানের এক বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে নতুন করে জঙ্গি যোগ ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

ইসলামাবাদ: পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র সাম্প্রতিক চার্জশিটকে কার্যত খারিজ করে দিল পাকিস্তান। সরাসরি ভারতের তদন্ত প্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা এবং রাষ্ট্রপুঞ্জ ঘোষিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হাফিজ সইদের হয়েই যেন ব্যাট ধরল ইসলামাবাদ। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কার্যত আরও একবার ভারত-বিরোধী অবস্থানকেই স্পষ্ট করল পাকিস্তান।

গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও-এ ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় এনআইএ হাফিজ সইদকে অভিযুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংস্থার তরফ থেকে হাফিজের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা (এনবিডব্লিউ) জারি করা হয়েছে এবং তাকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ করার আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার কয়েক দিন পরেই পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের তদন্তকে ‘সাজানো’ বলে কটাক্ষ করেন।

পাকিস্তানের দাবি, ভারত যে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আন্দরাবি বলেন, “ভারতের এই চার্জশিট পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কাশ্মীরি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে কোণঠাসা করতেই এই ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিচ্ছে নয়াদিল্লি।” শুধু তাই নয়, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি পরিকাঠামোর সঙ্গে পহেলগাঁও হামলার কোনো যোগসূত্র নেই বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ।

তবে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাদের মতে, পাকিস্তানের এই তড়িঘড়ি প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে অন্য কারণ। গোয়েন্দাদের দাবি, পহেলগাঁও হামলায় ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া গো-প্রো ফুটেজ, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং জিপিএস কোঅর্ডিনেট, সবই সরাসরি পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর হ্যান্ডলার সাজিদ জাটের দিকে আঙুল তুলছে। গোয়েন্দা সূত্রে আরও খবর, ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে যে অস্ত্র ভারতে পাঠানো হয়েছিল, তারও অকাট্য প্রমাণ হাতে এসেছে এনআইএ-র।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-কে যে লস্করেরই একটি শাখা বা ছদ্মনাম হিসেবে এখন আন্তর্জাতিক মহল দেখছে, তাতে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে পাকিস্তান। এতদিন তারা দাবি করত, টিআরএফ একটি স্বাধীন সংগঠন। ভারতের তদন্তে সেই দাবি ধোপে না টেকায়, নিজেদের ‘ডিনায়িবিলিটি’ বা অস্বীকার করার ক্ষমতা বজায় রাখতেই পাকিস্তান মরিয়া হয়ে হাফিজ সাঈদের হয়ে সওয়াল করছে। অথচ, ভারত যে সব ডিজিটাল ও ভৌত প্রমাণ পেশ করেছে, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি পাক বিদেশ মন্ত্রক। এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।