‘অভিষেককে তুলে ধরতেই শুভেন্দু ব্রাত্য’, বিস্ফোরক দাবি পার্থর

Kolkata: প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে। একসময় দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত পার্থ চট্টোপাধ্যায় (partha…

Partha Chatterjee on Mamata Banerjee

Kolkata: প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে। একসময় দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত পার্থ চট্টোপাধ্যায় (partha chaterjee) এখন দল থেকে কার্যত দূরে। দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতারি, দীর্ঘদিন জেলবন্দি জীবন এবং জামিনে মুক্তির পর তাঁর সঙ্গে দলের সম্পর্ক যে আগের মতো নেই, তা স্পষ্ট। আর সেই পরিস্থিতিতেই একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে তিনি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে সামনে আনছেন।

এক সাক্ষাৎকারে পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্দরমহলে যা কিছু ঘটেছে, তার সবটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতেন। তাঁর কথায়, “মমতা সব কিছুই জানতেন। সব কিছু হতে দিয়েছেন।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে নিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় একসময় শুভেন্দু অধিকারীকেও তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি। পার্থর মতে, সেই সময় থেকেই দলের ভিতরে অসন্তোষের বীজ বপন হয়েছিল।

সম্প্রতি তৃণমূলের একাধিক নেতা দল থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন বা প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন মদন মিত্র। তিনিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ফেসবুক লাইভে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর কাছে অভিষেক এখনও দলের অন্যতম লড়াকু নেতা। তিনি বলেন, “অভিষেক অনেক খারাপ আপনাদের কাছে। ওটা বাহানা হয়ে গিয়েছে। অভিষেকের বৌ যদি দেড় বছরের বাচ্চাকে নিয়ে সিবিআই অফিসে যেতে পারে, তাহলে একটু সেটিং করে নিলেই সবচেয়ে বেশি রিলিফ হতে পারত। কিন্তু তা হয়নি। তাই অভিষেককে দায়ী করে যারা দল ছাড়ছেন, তারা আসলে অজুহাত খুঁজছেন। অভিষেক আজও বাঘের মতো লড়াই করছে।”

মমতার এই বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যাঁরা দল ছেড়ে যাচ্ছেন, তাঁরা সবাই বেইমান—আমি তা মনে করি না। এত কিছুর পরও যদি অভিষেককে বাঘ বলা হয়, তাহলে বাকিরা কী? বেড়াল? তাহলে বলতে হয়, বাঘের অত্যাচারেই বেড়ালরা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছে।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, “যেদিন থেকে দিদি অভিষেককে তুলল, সেদিন থেকেই তৃণমূলের পতন শুরু।” তাঁর মতে, দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন, নেতৃত্বের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলেই আজ তৃণমূল কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।