ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যের চলতে থাকা যুদ্ধ শুক্রবার নতুন এবং অত্যন্ত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে (Mojtaba Khamenei)। একদিকে তেহরানের আকাশে অব্যাহত বিমান হামলা, অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এই দুইয়ের মাঝে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের সর্বশেষ মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেই গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং সম্ভবত তাঁর শরীরে স্থায়ী বিকৃতি তৈরি হয়েছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা মার্কিন ও ইজরায়েলি বিমান হামলার মধ্যেই তিনি এই আঘাত পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ পুণ্যার্থীদের জন্য একগুচ্ছ বিশেষ ট্রেনের ঘোষণা রেলের
হেগসেথ আরও বলেন, সম্প্রতি খামেনেইয়ের নামে যে লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে তা খুবই দুর্বল। সেখানে কোনও ভিডিও বা অডিও বার্তা নেই, যা সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে প্রকাশ করা হয়। তাঁর কথায়, “তিনি ভয় পেয়েছেন, আহত এবং লুকিয়ে রয়েছেন।” এই মন্তব্যের পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এই মুহূর্তে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম অবশ্য খামেনেইকে “যুদ্ধাহত” বলে উল্লেখ করলেও তাঁর অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফলে ইরানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেই তেহরানের আকাশে বিমান হামলা আরও তীব্র হয়েছে। ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিমান শাখা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ২০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং বিমান প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ধারাবাহিক আক্রমণ ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দ্রুত দুর্বল করার কৌশলের অংশ।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাব শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইরাকেও পরিস্থিতি ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বর্তমানে একটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত করছে। পশ্চিম ইরাকের আকাশে দুটি KC-135 স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার বিমান মাঝআকাশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় চারজন মার্কিন বিমানসেনা নিহত হয়েছেন। একটি বিমান নিরাপদে অবতরণ করতে পারলেও অন্যটি বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী দাবি করেছে যে তাদের হামলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে মার্কিন পেন্টাগন সেই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, এটি “বন্ধুত্বপূর্ণ আকাশসীমায় একটি দুর্ঘটনা”।
মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের কেন্দ্র হল হরমুজ প্রণালী । বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ এই জলপথ। ইরান এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে তারা এই প্রণালীতে মাইন পেতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে। তবে পেন্টাগনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত এমন কোনও স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি যে ইরান সত্যিই ওই এলাকায় সমুদ্র মাইন পেতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার কিছুটা স্বস্তি পেলেও তেলের দাম এখনও অস্থির রয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০১ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলিও এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব অনুভব করছে। উত্তর ইরাকে চলতে থাকা অস্থিরতার মাঝে একজন ফরাসি সেনা নিহত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যে ধীরে ধীরে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে, তা নিয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।



















