উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার ১৩ বছরের মেয়ে কিম জু একে দেশের পরবর্তী নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন (Kim Jong)। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) আজ বৃহস্পতিবার আইনপ্রণেতাদের একটি বৈঠকে এই তথ্য জানিয়েছে। এই খবর বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, কারণ এতে কিম পরিবারের শাসন চতুর্থ প্রজন্মে পৌঁছাতে চলেছে, আর সেটাও একজন কিশোরী মেয়ের হাতে।
কিম জু এ প্রথমবার জনসমক্ষে আসেন ২০২২ সালের নভেম্বরে, যখন তার বাবার সঙ্গে একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় দেখা যায়। তারপর থেকে তিনি ধীরে ধীরে আরও বেশি করে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেন। সামরিক পরেড, অস্ত্র পরিদর্শন, কারখানা উদ্বোধন, এমনকি চীন সফরেও বাবার পাশে থেকেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন বছরের প্রথম দিনে পিয়ংইয়ংয়ের কুমসুসান প্রাসাদ অফ দ্য সান-এ তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যাওয়া অনেকের কাছে স্পষ্ট সংকেত বলে মনে হয়েছে।
আরও দেখুন: কিষান-হার্দিকের ব্যাটে ভর করে নামিবিয়াকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ভারতের
এই প্রাসাদে কিম ইল সুং ও কিম জং ইলের মমি রাখা আছে, যা কিম পরিবারের জন্য পবিত্র স্থান।এনআইএস-এর কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, আগে কিম জু একে ‘উত্তরাধিকারী প্রশিক্ষণের মধ্যে’ বলা হতো। কিন্তু এখন তাকে ‘উত্তরাধিকারী মনোনীত’ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তারা লক্ষ্য করেছেন যে, কিম জু এ কিছু রাষ্ট্রীয় নীতি বিষয়ে মতামত দিচ্ছেন, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আসন্ন ওয়ার্কার্স পার্টি কংগ্রেসে তিনি যদি বাবার সঙ্গে উপস্থিত হন বা কোনো আনুষ্ঠানিক উপাধি পান, তাহলে এই উত্তরাধিকার আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।কিম জং উনের বয়স এখন ৪২ বছর। তিনি ২০১১ সালে বাবা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন। তার নিজের ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া ছিল দ্রুত এবং অপ্রত্যাশিত। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি মেয়েকে খুব ছোট বয়স থেকেই প্রস্তুত করছেন।
কিম জু এর জন্ম ২০১৩ সালের কাছাকাছি বলে ধারণা করা হয়, যা প্রাক্তন এনবিএ তারকা ডেনিস রডম্যানের কথা থেকে জানা যায়। তিনি ২০১৩ সালে কিমের সঙ্গে দেখা করে তার ছোট মেয়েকে কোলে নিয়েছিলেন।এই ঘোষণা বা মূল্যায়ন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। উত্তর কোরিয়ায় এখনো পর্যন্ত কোনো নারী সর্বোচ্চ নেতা হননি।
কিম পরিবারের শাসন ১৯৪৮ সাল থেকে চলছে প্রথমে কিম ইল সুং, তারপর কিম জং ইল, এখন কিম জং উন। চতুর্থ প্রজন্মে একজন মেয়ে নেতৃত্বে এলে তা ঐতিহাসিক। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এত কম বয়সে কি তিনি দেশের জটিল রাজনীতি, সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন? অনেকে বলছেন, এটা কিম জং উনের ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশলও হতে পারে, যাতে পরিবারের বাইরে কোনো চ্যালেঞ্জ না উঠে।




















