টার্গেট ইরান! ৪ সপ্তাহে ৮৫০ মিসাইল! কপালে ভাঁজ পেন্টাগনের?

নয়াদিল্লি: মাত্র চার সপ্তাহের সংঘাতে ইরানের দিকে ৮৫০টিরও বেশি ‘টমাহক’ (Tomahawk) ক্রুজ মিসাইল ছুড়েছে আমেরিকার সেনা। আর বিপুল মাত্রায় এই অস্ত্র ব্যবহারের জেরে পেন্টাগনের অন্দরেই এবার বড়সড় উদ্বেগ ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us

নয়াদিল্লি: মাত্র চার সপ্তাহের সংঘাতে ইরানের দিকে ৮৫০টিরও বেশি ‘টমাহক’ (Tomahawk) ক্রুজ মিসাইল ছুড়েছে আমেরিকার সেনা। আর বিপুল মাত্রায় এই অস্ত্র ব্যবহারের জেরে পেন্টাগনের অন্দরেই এবার বড়সড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মজুত ভাণ্ডারে টান পড়ায়, কীভাবে দ্রুত এই মিসাইলগুলির উৎপাদন বাড়ানো যায়, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেই শুরু হয়েছে জোরদার আলোচনা।

উদ্বেগের কারণ ঠিক কোথায়?

পরিসংখ্যান বলছে, বছরে গড়ে মাত্র ৯০টি টমাহক মিসাইল কেনে আমেরিকা। ২০২৬ সালের জন্য মাত্র ৫৭টি মিসাইলের বরাত দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, গত চার সপ্তাহে যে পরিমাণ মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে, তা আমেরিকার বার্ষিক ক্রয়ের প্রায় নয় গুণ! বিশেষজ্ঞদের মতে, পেন্টাগনের হাতে আনুমানিক ৩,১০০টি টমাহক মিসাইল মজুত রয়েছে। কিন্তু যে হারে এই অত্যাধুনিক দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে খুব দ্রুত ভাণ্ডার শূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

   

কী বলছে ট্রাম্প প্রশাসন?

অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠলেও, হোয়াইট হাউস সেই আশঙ্কা খারিজ করে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিত জানিয়েছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য সেনার কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অস্ত্র উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিকে দেশের মাটিতে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেলও সুর মিলিয়ে জানিয়েছেন, যে কোনও পরিস্থিতিতে মিশন সফল করার মতো রসদ সেনার কাছে রয়েছে।

টমাহক মিসাইল কী এবং এর দাম কত?

ঠান্ডা যুদ্ধের সময় তৈরি এই টমাহক হলো অত্যন্ত শক্তিশালী, দূরপাল্লার এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম একটি ক্রুজ মিসাইল। মূলত যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন থেকে এটি ছোড়া হয়। ১০০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে শত্রুপক্ষের কড়া নিরাপত্তাবলয় অনায়াসে ভেদ করতে পারে এই মিসাইল। এর সাধারণ সংস্করণগুলির একেকটির দাম প্রায় ২২ লক্ষ ডলার। তবে আরও উন্নত সংস্করণগুলির দাম ৪০ লক্ষ ডলারেরও বেশি। এর পাশাপাশি, লঞ্চারগুলির দাম পড়ে প্রায় ৬০ লক্ষ ডলার।

ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ

আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে নতুন চুক্তি করা হচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছনোর কথা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্রের উৎপাদন বেশ জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। পাইলটদের জীবনের ঝুঁকি কমাতে দূরপাল্লার এই মিসাইল দারুণ কার্যকর হলেও, আধুনিক যুদ্ধে যে হারে এই ব্যয়বহুল মিসাইল চোখের নিমেষে শেষ হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ক্ষেত্রে আমেরিকার সামনে বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।