নয়াদিল্লি: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে দাপুটে ব্যাটিংয়ে বড় রানের পাহাড় গড়ল টিম ইন্ডিয়া (T20 World Cup)। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় ভারতীয় ব্যাটারদের। বিশেষ করে ওপেনিংয়ে নেমে ঈশান কিষান ও সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো ব্যাটিং ম্যাচের রং বদলে দেয় প্রথম কয়েক ওভারেই।
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ভারত শুরু থেকেই রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয় ওভার থেকেই বাউন্ডারি-ছক্কার বন্যা বইয়ে দেন সঞ্জু স্যামসন। মাত্র ৮ বলে ২২ রানের ইনিংসে একটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকান তিনি। নামিবিয়ার বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত গেরহার্ড এরাসমাসের বলে একটি লুজ শট খেলে কাউ কর্নারে বেন শিকোঙ্গোর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যেতে হয় সঞ্জুকে। তবে তার আগেই তিনি দলের রানরেটকে আকাশছোঁয়া করে দেন।
অন্যদিকে উইকেটের এক প্রান্ত ধরে রেখে বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন ঈশান কিষান। নামিবিয়ার বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে মাত্র ২৪ বলে ৬১ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন তিনি। ছয়টি চার ও পাঁচটি বিশাল ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস ভারতীয় ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২৫৪-এরও বেশি, যা ম্যাচের গতি পুরোপুরি ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। তার ব্যাটে ভর করেই মাত্র ৭ ওভারে ১০০ রানে পৌঁছে যায় সূর্য বাহিনী।
ঈশানের বিদায়ের পর তিলক ভার্মা কিছুটা দায়িত্ব নিয়ে খেলেন। ২১ বলে ২৫ রান করে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে নামিবিয়ার অধিনায়ক এরাসমাসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও এদিন বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ১৩ বলে ১২ রান করে স্টাম্পড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি।
মধ্যভাগে ভারতের ইনিংসকে নতুন গতি দেন হার্দিক পান্ডিয়া। শুরু থেকেই তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাট করেন। নামিবিয়ার বোলারদের বিরুদ্ধে একের পর এক বড় শট খেলতে থাকেন তিনি। মাত্র ২৮ বলে ৫২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন হার্দিক। চারটি চার ও চারটি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস ভারতের স্কোরবোর্ডে দ্রুত রান যোগ করে। শেষ দিকে শিভম দুবে ১৬ বলে ২৩ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেও রান আউট হয়ে ফিরে যান।
রিঙ্কু সিং এদিন ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে পারেননি। মাত্র ৬ বলে ১ রান করে আউট হন তিনি। অক্ষর প্যাটেল শূন্য রানে ফিরে যান। শেষ দিকে কিছু রান তুললেও নিয়মিত উইকেট পড়ায় ভারতের ইনিংস কিছুটা থমকে যায়। তবে শুরু ও মাঝের দিকের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের জোরেই বড় স্কোর গড়তে সক্ষম হয় ভারত।
নামিবিয়ার হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস। তিনি একাই চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনে ধাক্কা দেন। তবুও ঈশান কিষান ও হার্দিক পান্ডিয়ার ঝোড়ো ইনিংসের সামনে নামিবিয়ার বোলিং আক্রমণ বেশ চাপে পড়ে যায়। তবে ঈশান এবং হার্দিক ঝোড়ো ব্যাটিং করলেও বাকি সবাইকে আজ বেশ স্তিমিত মনে হয়েছে। বিশেষ করে শেষ ৩ ওভারে দারুন বোলিং এবং ফিল্ডিং করে ভারতকে চমকে দেন নামিবিয়ার খেলোয়াড়রা।




















