‘টয়লেট পেপারের মতো ব্যবহার করে ফেলে দিয়েছে’, আমেরিকা প্রসঙ্গে বিস্ফোরক পাক মন্ত্রী

ইসলামাবাদ: অতীতে আমেরিকার সাথে সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে এক ভয়াবহ ও বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ। পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি অভিযোগ করেন,…

Khawaja Asif US Used Pakistan Remark

ইসলামাবাদ: অতীতে আমেরিকার সাথে সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে এক ভয়াবহ ও বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ। পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন তাদের কৌশলগত স্বার্থে ইসলামাবাদকে ‘ব্যবহার’ করেছে এবং প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে “টয়লেট পেপারের মতো” ফেলে দিয়েছে।

সংসদে খাজা আসিফের চাঞ্চল্যকর দাবি

সোমবার পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ অতীতের ভুলের জন্য সামরিক শাসকদের দায়ী করেন। তাঁর মন্তব্যের মূল দিকগুলো হল-

   

আমেরিকার ব্যবহার: আসিফ বলেন, ১৯৯৯ সালের পর বিশেষ করে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর পাকিস্তানের নীতি আমেরিকার সাথে পুনরায় যুক্ত হওয়ার দিকে ঝুঁকেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, “পাকিস্তানকে টয়লেট পেপারের চেয়েও খারাপভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পর ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে।”

আফগান যুদ্ধ ছিল ভুল: প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সাফ জানান, আফগানিস্তানে দুই যুদ্ধের সাথে পাকিস্তানের জড়িয়ে পড়া বড় ‘ভুল’ ছিল। আজকের পাকিস্তানে যে সন্ত্রাসবাদ চলছে, তা সেই অতীতের ভুলেরই ফল (blowback)।

‘জিহাদ’-এর নামে ভণ্ডামি: আসিফ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, আফগান সংঘাতে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ধর্মীয় দায়িত্বের কারণে ছিল না। তিনি স্বীকার করেন, পাকিস্তানের নাগরিকদের ‘জিহাদ’-এর নামে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল, যা ছিল অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর এবং ক্ষতিকর।

একনায়কদের দায়: তিনি পার্লামেন্টকে বলেন, “দুই প্রাক্তন সামরিক শাসক (জিয়া-উল-হক এবং পারভেজ মোশাররফ) আফগানিস্তানের যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন ইসলামের খাতিরে নয়, বরং একটি পরাশক্তিকে (আমেরিকা) খুশি করার জন্য।”

অতীতের ভুল ‘অপরিবর্তনযোগ্য’ Khawaja Asif US Used Pakistan Remark

খাজা আসিফ আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা আমাদের ইতিহাসকে অস্বীকার করি এবং আমাদের ভুলগুলো স্বীকার করি না।” তিনি মনে করেন, পাকিস্তান যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তা কখনোই পূরণ করা সম্ভব নয় এবং এই ভুলগুলো ‘অপরিবর্তনযোগ্য’। এই যুদ্ধগুলোকে সমর্থন করার জন্য পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজানো হয়েছিল, যার আদর্শিক প্রভাব আজও রয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারের পর থেকেই পাকিস্তান চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যার ইঙ্গিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট।