এবার সরাসরি ইরানকে হুঁশিয়ারি দিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (Giorgia Meloni)। একটি কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন যে আয়াতুল্লাহ শাসিত ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র এবং ইউরোপে আঘাত হানতে সক্ষম মিসাইলের সমন্বয়ে সজ্জিত হতে দেওয়া যাবে না। এমন ক্ষমতা অর্জন করলে ইউরোপের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি হবে এবং বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেতে পারে।
বুধবার, ১১ মার্চ ইতালিয়ান সেনেটে ভাষণ দিতে গিয়ে মেলোনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমরা আয়াতুল্লাহ শাসনকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দিতে পারি না, বিশেষ করে এমন মিসাইল ক্ষমতার সঙ্গে যা শীঘ্রই ইতালি এবং ইউরোপকে সরাসরি আঘাত করতে সক্ষম হবে।”
মেলোনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অ-প্রসারণ ব্যবস্থাকে ভেঙে দেবে এবং গ্লোবাল নিরাপত্তার জন্য ‘ড্রামাটিক’ পরিণতি ডেকে আনবে।
আরও দেখুনঃ Vivo-র দারুণ অফার! 7200mAh ব্যাটারি সহ লঞ্চ হল Vivo Y51 Pro 5G
মধ্যপ্রাচের অশান্ত পরিবেশে মেলোনির এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা। ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা করছে গাল্ফ দেশগুলোতে, শিপিং রুটে এবং এমনকি ইউরোপীয় স্বার্থে। মেলোনি বলেছেন যে এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে একতরফা হস্তক্ষেপের একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে বিশ্বব্যবস্থায় সৃষ্ট অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে এখন আরও একটি পারমাণবিক হুমকি যোগ হলে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠবে।
ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং ন্যাটোর অংশীদার। মেলোনির এই সতর্কতা ইউরোপের অনেক নেতার মতের সঙ্গে মিলে যায়, যারা ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রামকে সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করেন। ইরানের মিসাইলগুলো এখনই ইউরোপের কিছু অংশে পৌঁছাতে সক্ষম, এবং পারমাণবিক ওয়ারহেড যোগ হলে এটি সরাসরি ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি সবার জন্য বিপদ।
মেলোনি বলেছেন যে এমন ক্ষমতা অর্জন করলে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে, যা বিশ্ব নিরাপত্তাকে ধ্বংস করবে।ইতালি ইতিমধ্যে গাল্ফ দেশগুলোতে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পাঠিয়েছে এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে। মেলোনির সরকার ইরানের হামলার পর গাল্ফ মিত্রদের সাহায্য করছে।
তিনি বলেছেন যে ইতালি যুদ্ধে জড়াতে চায় না, কিন্তু নিজের নিরাপত্তা ও ইউরোপের স্বার্থ রক্ষায় সতর্ক থাকবে। এই বক্তব্যের পর ইতালিয়ান সেনেটে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বলছেন যে ইউরোপকে আরও শক্তিশালী অবস্থান নিতে হবে, যাতে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখে দেওয়া যায়।




















