লন্ডন: ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক তরুনের হাতে এখন ব্রিটেনের মন্ত্রিত্ব । (Kanishk Narayan)বিহারের তরুণ কনিষ্ক নারায়ণকে নিয়োগ করা হয়েছে দেশের প্রথম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) মন্ত্রী হিসেবে। এই ঘোষণার পর থেকেই ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহলে এবং ভারতীয় প্রবাসী সমাজে উচ্ছ্বাসের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। অনেকেই ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে বলতে শুরু করেছেন যেদিন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদ ছাড়লেন একই সময়ে ইংরেজদের দেশে মন্ত্রী হলেন ভারতের সন্তান।
কনিষ্ক নারায়ণের এই নিয়োগকে অনেকেই দেখছেন ব্রিটেনের এআই খাতে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে। তিনি বিহারের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি প্রযুক্তি ও নীতি নির্ধারণে আগ্রহী ছিলেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি এআই নীতি, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার নিয়ে কাজ করেছেন।
আরও দেখুনঃ ধর্মেন্দ্রর ইস্তফাতেও মিলল না স্বস্তি! ফের রণক্ষেত্র যন্তরমন্তর
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কনিষ্ক নারায়ণের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য এআই প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রিত, নিরাপদ এবং জনকল্যাণমুখী করার লক্ষ্যে এগোবে। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে এআই-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন, শিল্পের বিকাশ, চাকরির বাজারে প্রভাব মোকাবিলা এবং ডেটা সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই যেহেতু বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত প্রযুক্তি, তাই একজন বিশেষজ্ঞ মন্ত্রীর প্রয়োজন ছিল।
কনিষ্ক সেই জায়গাটি পূরণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।কনিষ্ক নারায়ণ নিয়োগের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “এটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। বিহারের একটি সাধারণ পরিবার থেকে এই পদে আসতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। এআই শুধু প্রযুক্তি নয়, এটা সমাজ বদলের হাতিয়ার। আমরা নিশ্চিত করব যাতে এই প্রযুক্তি সকলের কল্যাণে আসে, কারও ক্ষতি না করে।”
বিহারের শিক্ষামহলে এই খবর আলোড়ন তুলেছে। অনেক শিক্ষার্থী এখন কনিষ্ককে অনুসরণ করতে চাইছেন। ব্রিটেনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই নিয়োগ ব্রিটেনের বৈচিত্র্যময় সমাজের প্রতিফলন।
আরও দেখুনঃ ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানোর ছক কষছে সরকার’! নিট ইস্যুতে তোপ রাহুলের
একজন অভিবাসী পরিবারের সন্তানকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া দেখিয়ে দেয় যে, যোগ্যতাই শেষ কথা। এআই খাতে ব্রিটেন চিন ও আমেরিকার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কনিষ্কর নেতৃত্বে এই প্রতিযোগিতায় দেশটি কতটা এগোতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





