বেঙ্গালুরু: ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল HCLTech। সংস্থাটি ওড়িশার আসন্ন Sovereign AI Park-এ ১৪,২৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তাদের প্রথম AI ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এটি দেশের সার্বভৌম AI (Sovereign AI) পরিকাঠামোয় অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই প্রকল্পে HCLTech-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে দেশীয় AI স্টার্টআপ Sarvam এবং ওড়িশা সরকার। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভারতের নিজস্ব AI ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করা। HCLTech তাদের AI অবকাঠামো এবং পরিষেবা দেওয়ার দক্ষতা কাজে লাগাবে। অন্যদিকে Sarvam তাদের দেশীয় ফাউন্ডেশন মডেল ব্যবহার করে বিভিন্ন শিল্প, সরকারি দফতর এবং সরকারি সংস্থার জন্য বিশেষভাবে তৈরি AI অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করবে।
Also Read | বাংলার আমূল হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দই কারখানা! দাবি মোদী সরকারের
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন মাত্র এক মাস আগে Sarvam একটি নতুন ফান্ডিং রাউন্ডে ২৩৪ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এই বিনিয়োগ পর্বের নেতৃত্ব দেয় HCLTech এবং Bessemer Venture Partners। নতুন বিনিয়োগের ফলে Sarvam-এর বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৫ বিলিয়ন ডলার।
এই ফান্ডিং রাউন্ডে HCLTech প্রধান কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে ১৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এর মাধ্যমে সংস্থাটি Sarvam-এর ১০.৪ শতাংশ অংশীদারিত্ব অর্জন করেছে। এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে AI প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দেশীয় উদ্ভাবনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Also Read | জুন মাসে ৫.১৪ বিলিয়নের রুশ তেল কিনে রেকর্ড মোদী সরকারের
HCLTech-এর চেয়ারপার্সন রোশনি নাদার মালহোত্রা বলেন, সংস্থার লক্ষ্য ভারতের সার্বভৌম AI ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা। সেই উদ্দেশ্যেই তারা মূল্য শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ এবং অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের AI প্রযুক্তি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
AI ডেটা সেন্টারের পাশাপাশি HCLTech আরও একটি বড় ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি ভুবনেশ্বরে একটি গ্লোবাল টেকনোলজি সেন্টার স্থাপন করবে। এই কেন্দ্র থেকে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থাকে AI-নির্ভর ডিজিটাল সমাধান প্রদান করা হবে।
নতুন এই প্রযুক্তি কেন্দ্র প্রায় ৫,০০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে জানানো হয়েছে। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে এই কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, AI প্রযুক্তিতে দেশীয় সক্ষমতা বাড়াতে এই ধরনের বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি ওড়িশাকে দেশের উদীয়মান প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলির অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করতে পারে। AI ডেটা সেন্টার এবং নতুন প্রযুক্তি কেন্দ্র চালু হলে শুধু উন্নত প্রযুক্তি নয়, কর্মসংস্থান, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





