বালুচিস্তানে পাক পুলিশ পোস্ট দখল করে আগুন দিল অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা

ইসলামাবাদ: পাকিস্তান অধিকৃত বালুচিস্তানের মাস্তুং জেলার কানাক এলাকায় চাঞ্চল্য। (police post attack )সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে কয়েকজন অজ্ঞাত বন্দুকধারী একটি পুলিশ পোস্ট দখল করে তাতে…

balochistan-police-post-attack-mastung-gunmen-fire

ইসলামাবাদ: পাকিস্তান অধিকৃত বালুচিস্তানের মাস্তুং জেলার কানাক এলাকায় চাঞ্চল্য। (police post attack )সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে কয়েকজন অজ্ঞাত বন্দুকধারী একটি পুলিশ পোস্ট দখল করে তাতে আগুন দিয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে বা সোমবার ভোরের দিকে। হামলাকারীরা পুলিশ পোস্টটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অস্ত্রশস্ত্র লুট করে এবং পরে পোস্টটি ও সেখানে থাকা একটি যানবাহন আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় বালুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

   

স্থানীয় সূত্র এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুসারে, হামলাকারীরা অতর্কিতে পুলিশ পোস্টে ঢুকে পড়ে। পোস্টে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা প্রথমে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেও সংখ্যায় কম থাকায় তারা অসহায় হয়ে পড়েন। হামলাকারীরা দ্রুত পোস্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাইফেল, গুলি, ওয়্যারলেস সেটসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। তারপর পোস্টের ভিতরে থাকা আসবাবপত্র ও যানবাহন আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আশেপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

আরও দেখুনঃ কোর্ট ছেড়ে কি ভোটের ময়দানে লিয়েন্ডার? জল্পনায় সরগরম ক্রীড়াজগত !

পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করেনি। তবে বেলুচিস্তানে এ ধরনের ঘটনায় প্রায়ই বেলুচ লিবারেশন আর্মি (BLA) বা অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর নাম উঠে আসে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেলুচিস্তানে BLA-এর ‘অপারেশন হিরোফ’ নামে একাধিক সমন্বিত হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। মাস্তুং জেলা বেলুচিস্তানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজ চলছে।

এমন হামলা প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বলছেন, “রাতের অন্ধকারে পুলিশ পোস্টই যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ?” মাস্তুং জেলায় গত কয়েক মাসে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ, ফ্রন্টিয়ার কর্পস এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বারবার আক্রমণ হয়েছে।

কখনো অস্ত্র লুট, কখনো যানবাহনে বোমা হামলা এসব ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রাণ হারিয়েছেন।পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং বেলুচিস্তান পুলিশ এখন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় সাক্ষী এবং আশেপাশের এলাকায় তল্লাশি চলছে। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “হামলাকারীরা অত্যন্ত সংগঠিত ছিল। তারা দ্রুত কাজ সেরে পালিয়ে যায়। আমরা তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।” তবে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই এ ধরনের হামলার দায় স্বীকার করে ভিডিও প্রকাশ করে, যাতে লুট করা অস্ত্র দেখানো হয়।