ইরান-হিজবুল্লার ভয়ঙ্কর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্থ ইসরায়েলের বৃহত্তম তেল শোধনাগার

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হাইফায় ভয়ঙ্কর হামলা। (Iran Hezbollah attack)আজ ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলায় ইসরায়েলের অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগার বাজান (Bazan) অয়েল…

iran-hezbollah-attack-israel-bazan-refinery-haifa-fire

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হাইফায় ভয়ঙ্কর হামলা। (Iran Hezbollah attack)আজ ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলায় ইসরায়েলের অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগার বাজান (Bazan) অয়েল রিফাইনারিতে আগুন লেগেছে। ঘটনাস্থলে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে এবং দমকল বাহিনী আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রিফাইনারির এলাকায় আকস্মিক বিস্ফোরণের পর আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ছে।

এই হামলা পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।প্রত্যক্ষদর্শী এবং ইসরায়েলি মিডিয়া সূত্র জানিয়েছে, আজ সকালে হাইফার আকাশে সাইরেন বেজে ওঠে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং লেবাননভিত্তিক হিজবুল্লাহ যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ছোড়ে। হামলার লক্ষ্য ছিল হাইফা বন্দর এলাকা এবং আশেপাশের কৌশলগত স্থাপনা। বাজান রিফাইনারিতে শ্র্যাপনেল বা ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো পড়ে আগুন ধরে যায়।

Advertisements

আরও দেখুনঃ বালুচিস্তানে পাক পুলিশ পোস্ট দখল করে আগুন দিল অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা

ইসরায়েলি এনার্জি মন্ত্রী এলি কোহেন জানিয়েছেন, রিফাইনারিতে “কোনো বড় ধরনের ক্ষতি” হয়নি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। তবে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল, পরে তা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রিফাইনারির ভিতরের অংশে ধোঁয়া এবং আগুনের লেলিহান শিখা। চ্যানেল ১২-এর ফুটেজে আগুন নেভানোর জন্য দমকল কর্মীরা তৎপর রয়েছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যদিও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। রিফাইনারিটি ইসরায়েলের অর্ধেকেরও বেশি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ করে, তাই এখানে কোনো বড় ক্ষতি হলে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারত।ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, হাইফা এবং দক্ষিণের আশদোদের রিফাইনারি সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে “পিনপয়েন্ট” ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

এটি ইরানের বিভিন্ন জ্বালানি পরিকাঠামোয় ইসরায়েল-মার্কিন হামলার প্রতিশোধ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। হিজবুল্লাহও একাধিক রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এই যৌথ হামলা ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।হাইফা শহরের বাসিন্দারা আতঙ্কিত। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “সাইরেন শুনে আমরা দৌড়ে আশ্রয় নিয়েছি। আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রিফাইনারির দিক থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছি।” ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশপথে ধ্বংস করা হয়েছে, কিন্তু কিছু টুকরো রিফাইনারি এলাকায় পড়ে যাতে আগুন লেগে যায়।