কলকাতা: সরকারি স্কুলের পরিকাঠামোর ভোলবদল ঘটিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে মরিয়া রাজ্য সরকার। শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, রাজ্যের প্রতিটি সরকারি স্কুলে এবার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় স্মার্ট ক্লাসরুম থেকে শুরু করে মিড-ডে মিলের উন্নত রান্নাঘর, সবকিছুই আমূল ঢেলে সাজানো হবে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, প্রতিটি সরকারি স্কুলকেই আগামী দিনে আকর্ষণীয় ও কার্যকর করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
শিক্ষা দফতরের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বেসরকারি স্কুলের অত্যধিক ফি ও নানাবিধ খরচের বোঝার মুখে সাধারণ অভিভাবকরা কিছুটা অসহায়। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সরকারি স্কুলগুলিকে আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং পাঠদানের গুণমান নিশ্চিত করতে নতুন করে কড়া নজরদারি শুরু হচ্ছে। অতীতে ক্লাসে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি নিয়ে যে অভিযোগ উঠত, তা এবার বরদাস্ত করা হবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে দফতর।
অন্যদিকে, জরাজীর্ণ স্কুলগুলির সংস্কারেও বিশেষ অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে। যে সব স্কুলের ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে বা বসার পর্যাপ্ত বেঞ্চ নেই, সেগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চিহ্নিত করে দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু হবে। শুধু তাই নয়, পড়ুয়াদের পড়াশোনার মানোন্নয়নেও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেসব স্কুলে ধারাবাহিকভাবে খারাপ ফলাফল হচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, স্কুলছুট বা ড্রপআউট রুখতে নতুন নীতি। কোনো পড়ুয়া হঠাৎ স্কুলে আসা বন্ধ করলে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে হবে। মূলত স্কুলছুট কমানো এবং নাবালিকা বিয়ে রুখতেই এই গৃহ-পরিদর্শনের নির্দেশ। তবে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষক সংকট। গ্রামীণ এলাকার বহু স্কুলে যেখানে শিক্ষক নেই, সেখানে শহরের স্কুলগুলিতে অতিরিক্ত শিক্ষক থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই ভারসাম্যহীনতা দূর না করলে পরিকাঠামো উন্নয়নের সুফল কতটুকু সাধারণ পড়ুয়ারা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে শিক্ষামহলের একাংশ।





