সিভিক ভলান্টিয়ারদের ঝাড়াই-বাছাই শুরু! চাকরি বাঁচাতে দিতে হবে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা

কলকাতা: সিভিক ভলান্টিয়ারদের কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাইয়ে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন যে, সিভিক ভলান্টিয়ারদের ঝাড়াই-বাছাই করা…

কলকাতা: সিভিক ভলান্টিয়ারদের কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাইয়ে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন যে, সিভিক ভলান্টিয়ারদের ঝাড়াই-বাছাই করা হবে। সেই ঘোষণারই এবার বাস্তবায়ন হতে চলেছে। বাহিনীতে থাকা কর্মীদের শিক্ষাগত ও শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়ে গিয়েছে। (West Bengal Civic Volunteer Evaluation)

কীসের ভিত্তিতে হবে এই মূল্যায়ন?

পুলিশ সূত্রে খবর, সিভিক ভলান্টিয়ারদের শুধুমাত্র শারীরিক সক্ষমতাই নয়, আইন সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান, কম্পিউটার চালানোর দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণের পরীক্ষাও নেওয়া হবে। সম্পূর্ণ মূল্যায়নটি হবে মোট ৫০ নম্বরের ভিত্তিতে। যাঁরা এই নির্ধারিত মানদণ্ড বা কাট-অফ নম্বর পেরিয়ে উত্তীর্ণ হবেন, তাঁদের চাকরি নিয়ে আপাতত কোনও সংশয় নেই। তবে যাঁরা ব্যর্থ হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ, এমনকী ছাঁটাইয়ের মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

   

পরীক্ষার নম্বর বিভাজন

মোট ৫০ নম্বরের পরীক্ষাকে দু’টি সমান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। কোচবিহার জেলা প্রথম এই মূল্যায়নের কাঠামো তৈরি করেছে, যা রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলিও অনুসরণ করছে।

শারীরিক পরীক্ষা (২৫ নম্বর): এই ধাপে দৌড়, ওঠবোস, সিট-আপের পাশাপাশি উচ্চতা, ওজন এবং বুকের মাপ নেওয়া হবে। শারীরিক সক্ষমতা প্রমাণের জন্য এক থেকে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়ানোর পরীক্ষাও নেওয়া হতে পারে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা নম্বর নির্ধারিত থাকবে।

শিক্ষাগত ও পেশাগত মূল্যায়ন (২৫ নম্বর): এই অংশে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা আইন সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান, সাধারণ জ্ঞান, কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা এবং ডিউটি পালনের সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

কেন এই কড়া পদক্ষেপ?

পুলিশের একাংশের দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক সুপারিশ ও প্রভাব খাটিয়ে বহু সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই সময় তাঁদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বা শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়নি। পাশাপাশি, ডিউটি চলাকালীন সাধারণ মানুষের সঙ্গে এঁদের একাংশের অসৌজন্যমূলক আচরণেরও বিস্তর অভিযোগ জমা পড়ত। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সেই পরিস্থিতির বদল ঘটাতে এবং বাহিনীতে থাকা অযোগ্য কর্মীদের চিহ্নিত করে বাদ দিতেই স্বরাষ্ট্র দফতরের নির্দেশে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শারীরিক ও শিক্ষাগত- এই দুই ক্ষেত্রের প্রাপ্ত নম্বর মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট কাট-অফ নির্ধারণ করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরি হবে।