প্রশাসনে বেনোজল নয়! আরজিকর কাণ্ডে সাসপেন্ড বিনীত গোয়েল সহ দুই আইপিএস

প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দিদের কাছে স্মার্ট ফোন কেন। (Vineet Goyal)কলকাতা প্রেসিডেন্সি জেলের দুই কর্তাকে সাসপেন্ড করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও আরজিকরের নৃশংস অভয়া কাণ্ডে গাফিলতির জেরে সাসপেন্ড আইপিএস বিনীত গোয়েল-ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তা।

আরজি কর হাসপাতালের বহুচর্চিত চিকিৎসক-ছাত্রী ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এবার বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে তিন আইপিএস আধিকারিক বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত বা ডিপার্টমেন্টাল প্রোসিডিংস শুরু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি প্রশাসনিক মহলেও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

   

আরও দেখুনঃএবার থেকে লাইভ দেখা যাবে বিধানসভা! বিরোধীদের জন্যেও বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আরজি কর হাসপাতালের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের সময় একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের নেতৃত্বে তদন্তের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংবেদনশীলতা ও পেশাদারিত্বের অভাব ছিল।

শুধু তাই নয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়াই সাংবাদিক বৈঠক করার অভিযোগও উঠেছে কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি নির্যাতিতার পরিবারের মুখ বন্ধ করতে অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক মহলে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “কোনও আধিকারিক দায়িত্বে থেকে গাফিলতি করলে বা তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে সরকার তা বরদাস্ত করবে না।” তিনি আরও বলেন, তৎকালীন পুলিশ কমিশনার হিসেবে বিনীত গোয়েলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে এবং কেন তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি, তা বিশদে পরীক্ষা করা হবে।

ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সাংবাদিক বৈঠকে এমন কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। সেই সময়কার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ এবং নির্দেশ আদানপ্রদানের বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে।

আরজি কর হাসপাতালের এই ঘটনা শুরু থেকেই ব্যাপক জনরোষ তৈরি করেছিল। চিকিৎসক মহল, ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের একাংশ বারবার অভিযোগ তুলেছিল যে তদন্তে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিও হয়েছিল। সেই আবহে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল। এবার সরকার নিজেই তিন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করায় প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার বার্তা স্পষ্ট হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের। তবে বিরোধীরা এখনও দাবি করছে, শুধু সাসপেনশন নয়, ঘটনার পূর্ণ সত্য সামনে আনতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

এদিকে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভাগীয় তদন্তে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তদন্তে আধিকারিকদের ফোন রেকর্ড, অভ্যন্তরীণ নথি এবং যোগাযোগের তথ্যও খতিয়ে দেখা হতে পারে।