প্রেসিডেন্সি জেলে স্মার্টফোন-সিম কেলেঙ্কারি! জেল সুপার ও চিফ কন্ট্রোলার সাসপেন্ড

presidency-jail-smartphone-controversy-ips-suspended

কলকাতা: প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দিদের কাছে স্মার্টফোন ও সিম কার্ড পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে জেলের (Presidency Jail)সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, পূর্বতন শাসকদলের মদতে শাহজাহান শেখ সহ কয়েকজন কুখ্যাত অপরাধী জেলের ভিতর থেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করে অপরাধের বিস্তীর্ণ নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে জেলে অভিযান চালিয়ে “ঘুঘুর বাসা” ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্সি জেলকে নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছিল। বাইরের লোকজনের সঙ্গে ভিতরের বন্দিদের অবাধ যোগাযোগ, টাকার লেনদেন এবং এমনকি বড় বড় অপরাধের ছকও জেলের ভিতর থেকে তৈরি হচ্ছিল বলে অভিযোগ ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “জেল হবে সংশোধনাগার, অপরাধের আখড়া নয়। পূর্বতন প্রশাসনের আমলে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক মদতপুষ্ট ব্যক্তিরা জেলকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন।

   

আমরা সেই ঘুঘুর বাসা ভেঙে দিচ্ছি।”সূত্র জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হঠাৎ করেই জেলে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একাধিক স্মার্টফোন, সিম কার্ড, চার্জার এবং কিছু সন্দেহজনক নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। শাহজাহান শেখের মতো প্রভাবশালী অপরাধী যিনি সন্দেশখালির ঘটনায় জড়িত, তিনিও জেলের ভিতর থেকে বাইরের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় জেল প্রশাসনের গাফিলতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, অবশেষে জেলের ভিতরের কালো হাত ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা দপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই অভিযান শুধু প্রেসিডেন্সি জেলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজ্যের অন্যান্য জেলেও একই ধরনের তল্লাশি চালানো হতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোনো জেলেই অপরাধীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চলতে দেওয়া হবে না। জেল কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অডিট ও সিসিটিভি মনিটরিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা চলছে।রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। বিরোধীরা বলছেন, এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।

তবে সরকারি দলের নেতারা জানিয়েছেন, এটা কোনো প্রতিহিংসা নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অংশ। যাঁরা জেলের ভিতরে বসে অপরাধ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাহজাহান শেখের মামলায় ইতিমধ্যে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। জেল থেকে তাঁর বাইরের যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।