তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবারও প্রকাশ্যে চলে এলো। দলের বিদ্রোহী ব্লককে সরাসরি আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (kalyan banerjee) । সাংবাদিক বৈঠকে তিনি তীব্র ভাষায় অসন্তোষ প্রকাশ করে দলের ভিতরের একটি অংশকে “ক্ষমতালোভী” বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, ওই গোষ্ঠীর একমাত্র লক্ষ্য ক্ষমতা দখল করা এবং সেই ক্ষমতা পেলেই তারা দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে চায়।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এদের খালি ক্ষমতা চাই। ক্ষমতা পেতেই দল ভেঙে বিজেপিতে যেতে চাইছে। কিন্তু বিজেপি ওদের নেবে না।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন ইস্যুতে দলটি চাপের মুখে রয়েছে। তিনি আরও ইঙ্গিত করেন যে দলের কিছু নেতা দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় শৃঙ্খলা মানছেন না এবং ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই ধরনের আচরণ শুধু দলের ক্ষতি করছে না, বরং সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল একটি গণভিত্তিক দল এবং সেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থের রাজনীতি চলতে পারে না।
সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে জানান, দলীয় নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দলের অভ্যন্তরে কিছু অসন্তুষ্ট ও বিদ্রোহী সাংগঠনিক নেতৃত্বকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, কিছুদিন ধরেই দলের বিভিন্ন স্তরে মতবিরোধ দেখা দিচ্ছিল। বিশেষ করে পদ বণ্টন, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে একাংশ নেতার অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসছিল। এই পরিস্থিতিতেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া মন্তব্য দলীয় অভ্যন্তরীণ উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।




















