‘মেরুদণ্ড সোজা রাখুন, একটু…!’ এনডিএ-মুখী ইউসুফ পাঠানকে বেনজির আক্রমণ মহুয়ার

কলকাতা: লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে নজিরবিহীন ভাঙনের পর এবার চরম অন্তর্দ্বন্দ্বে জড়াল ঘাসফুল শিবির। বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে শামিল হওয়া বহরমপুরের সাংসদ তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানকে স্যোশাল মিডিয়ায় ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
ইউসুফ পাঠান

কলকাতা: লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে নজিরবিহীন ভাঙনের পর এবার চরম অন্তর্দ্বন্দ্বে জড়াল ঘাসফুল শিবির। বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে শামিল হওয়া বহরমপুরের সাংসদ তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানকে স্যোশাল মিডিয়ায় তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তলবে ইউসুফ তড়িঘড়ি দিল্লি ছুটে গিয়েছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই এক্স’ (X)-এ প্রাক্তন এই ভারতীয় অলরাউন্ডারকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলে তোপ দাগলেন মহুয়া।

তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জনই স্পিকার ওম বিড়লার দফতরে চিঠি দিয়ে দল ছাড়ার এবং এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই আক্রমণ শানান মহুয়া। ১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর থেকে তৃণমূলের এই অন্যতম গভীর রাজনৈতিক সংকটের মুহূর্তে মহুয়া মৈত্র অবশ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন। (Mahua Moitra slams Yusuf Pathan)

   

কী লিখেছেন মহুয়া মৈত্র?

ইউসুফ পাঠানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার দিনগুলির কথা মনে করিয়ে দিয়ে মহুয়া ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে লেখেন, “আমাদের জেলা আপনাকে বিপুল ব্যবধানে ভোট দিয়ে জিতিয়ে এনেছিল। একটু তো লজ্জা পান, নিজের মেরুদণ্ডটা অন্তত সোজা রাখুন।” এর আগে বিধানসভাতেও যে সমস্ত বিধায়কেরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছেন, তাঁদেরও ‘সম্পূর্ণ অপদার্থ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন মহুয়া। তাঁর দাবি ছিল, ওই নেতারা কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যারিশমার ওপর ভর করেই এতদিন টিকে ছিলেন।

ইউসুফ পাঠানকে নিয়ে বিতর্কের নেপথ্যে কী?

সম্প্রতি একটি বাংলা দৈনিকের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, বহরমপুর আসনটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপ-নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য সুরক্ষিত মনে করছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। কারণ এই কেন্দ্রে প্রায় ৫০-৫২ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউসুফ পাঠান যাতে বহরমপুরের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন, সেই জন্য সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ইউসুফ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। যদিও পরে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই খবরকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও সত্যের অপলাপ’ বলে উড়িয়ে দেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে হারিয়ে বহরমপুরে প্রথমবার তৃণমূলের পতাকা উড়িয়েছিলেন ইউসুফ পাঠান।

অ্যান্টি-ডিফেকশন ল বা দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর কৌশল

মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে যে ২০ জন সাংসদ স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো এখনই তৃণমূল থেকে পদত্যাগ না করে বা সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিয়ে লোকসভার ভেতরে একটি পৃথক ব্লক হিসেবে কাজ করা এবং এনডিএ জোটকে সমর্থন জোগানো। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে সাংসদ পদ খারিজ হওয়া থেকে বাঁচতেই এই আইনি কৌশল নিয়েছেন বিদ্রোহীরা।

বিধানসভাতেও কোণঠাসা অভিষেক?

লোকসভার এই মেগা ভাঙনের ঠিক কয়েক দিন আগেই তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা ৫৮ জন বিধায়কের সই সম্বলিত একটি চিঠি জমা দেন। যেখানে ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দলের নেত্রী পদে পুনর্নিশ্চিত করা হয় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোণঠাসা করার চেষ্টা। কারণ ঋতব্রত দীর্ঘদিন ধরেই অভিষেকের বিরুদ্ধে দলকে রাজনৈতিক আন্দোলনের বদলে কর্পোরেট সংস্থার মতো চালানোর অভিযোগ তুলে আসছেন। বিধানসভায় দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কের (৬০ জন) সমর্থন থাকায় দলত্যাগ বিরোধী আইনের হাত থেকে বেঁচে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী আগামী দিনে তৃণমূলের দলীয় প্রতীকের (ঘাসফুল) ওপরও দাবি জানাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google