কলকাতা: তীব্র দাবদাহের পর অবশেষে রাজ্যবাসীর জন্য স্বস্তির খবর। রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনগুলিতে রাজ্যজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। ইতিমধ্যেই সিকিম এবং উপ-হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু অংশে বর্ষা অগ্রসর হয়েছে। আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে এটি পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার আরও বিস্তীর্ণ অংশে প্রবেশের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
সক্রিয় একাধিক ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ ট্রাফ
আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পূর্ব উত্তর প্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকার ওপরের বায়ুমণ্ডলে একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর পাশাপাশি পাঞ্জাব থেকে বিহার হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চল পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ ট্রাফ (Trough) অবস্থান করছে। একই সঙ্গে উপ-হিমালয় সংলগ্ন বাংলা এবং সিকিম এলাকাতেও আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এই একাধিক অনুকূল পরিস্থিতির জেরে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস
প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢোকার কারণে আগামী সাত দিন ধরে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টাতেও উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি এবং কিছু জায়গায় ভারী বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
একইভাবে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে আগামী দিনগুলিতে ঝড়ের দাপট ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এমনকি আগামী ১০ ও ১১ জুনের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া (কালবৈশাখী) সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
পশ্চিমাঞ্চলে বজায় থাকবে অস্বস্তি
বর্ষার আগমন ঘটলেও দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলির একাংশে এখনই গরম থেকে সম্পূর্ণ রেহাই মিলছে না। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের কিছু অংশে আগামী কয়েকদিন গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া (Humid Weather) বজায় থাকবে। ফলে বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চলগুলিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে রাজ্যজুড়ে প্রাক-বর্ষা ও বর্ষার বৃষ্টি চলায় তাপমাত্রার পারদ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।




















